আন্তঃসংসদীয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০১৯      

লন্ডন প্রতিনিধি

লন্ডনে বাংলাদেশেরে এমপিদের নাগরিক সংবর্ধনা

আন্তঃসংসদীয় বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ সংসদীয় ক্রিকেট টিম। অভিযোগ উঠেছে, এমপিদের মধ্যে আয়োজিত এই খেলায় পাকিস্তান টিম প্রফেশনাল ক্রিকেটারদের মিথ্যে এমপি পরিচয় দিয়ে খেলার মাঠে নামিয়েছে।

শনিবার পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ইভেন্টস ভ্যানুতে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় এমন অভিযোগ করেন বাংলাদেশ দলের সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলসহ অন্য এমপিরা।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নাগরিক সংবর্ধনায় জাহিদ আহসান রাসেল ছাড়াও এমপিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নাইমুর রহমান দুর্জয়, নাহিম রাজ্জাক, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, শেখ সারহান নাসের তন্ময়, আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, তানভীর হাসান ছোট মনির, সানোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম শিমুল, ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল, মোহাম্মদ আয়েন উদ্দিন ও আনোয়ারুল আজীম আনার প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নঈমুদ্দিন রিয়াজ। 

এই নাগরিক সংবর্ধনায় ফুলের তোড়া হাতে তুলে দিয়ে সংসদীয় ক্রিকেট টিম সদস্যদের অভিনন্দন জানানো হয়।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, যে দেশগুলো ক্রিকেট খেলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বেগবান করার লক্ষ্যেই কিন্তু আমাদের ব্রিটেনে আসা। আমরা প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম যে, সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে যাবো বাংলাদেশে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতারণার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। 

রাসেল বলেন, প্রথম খেলায় আমরা পাকিস্তানকে পরাজিত করেছি। এরপর সাউথ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে পরাজিত করে ফাইনালে যায়। পাকিস্তান প্রতারণা না করলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা ছিলো আমাদের। আসলে খেলায় আমরা হয়েছি চ্যাম্পিয়ন, কিন্তু হেরেছি প্রতারণার কাছে।

এমপির মিথ্যা পরিচয়ে প্রফেশনাল ক্রিকেটারদের মাঠে নামানোর একই অভিযোগ করেন এমপি আয়নে উদ্দিনও। তিনি বলেন, শুধু এমপিদের মধ্যেই যদি এই খেলা হতো তাহলে নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, আমরাই চ্যাম্পিয়ন হতাম। কিন্তু এটি সম্ভব হয়নি পাকিস্তানের প্রতারণার কারণে। 

তিনি বলেন, ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে পাকিস্তানের মিথ্যাচারের অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ রয়েছে। এরই পুনরাবৃত্তি তারা করেছে আন্তঃসংসদীয় প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচেও।

শেখ সারহান নাসের তন্ময় বলেন, খেলতে এসেছিলাম, খেলেছি। খেলায় জয়-পরাজয় আছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিজয় তো ছিনিয়ে এনেছি ৭১ সালেই। সুতরাং আন্তঃসংসদীয় ক্রিকেটে তাদের এই মিথ্যাচারের বিজয়ে আমাদের কিছুই আসে যায় না।

বাংলাদেশ সংসদীয় ক্রিকেট টিমের সব সদস্যই খেলায় সর্বাত্মক সাপোর্ট দেওয়ায় ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, খেলার মাঠে দর্শক হিসেবে আমরা শুধু আমাদের মানুষদেরই দেখেছি, এটি ছিলো আমাদের জন্য বিশাল এক মানসিক সাপোর্ট।

ব্রিটেনে বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম একটি সুন্দর ও সফল খেলা উপহার দেওয়ায় বাংলাদেশ আন্তঃসংসদীয় ক্রিকেট টিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই খেলায় বাংলাদেশের একঝাঁক তরুণ এমপি যে দক্ষতা দেখিয়েছেন তাতে আমরা সত্যই অভিভূত। 

তিনি বলেন, ক্রিকেট কূটনীতি কাজে লাগিয়ে ব্রিটেন-বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আমরা আরও দৃঢ় করতে চাই। 

আলোচনা পর্ব শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

উল্লেখ্য, এবার প্রথমবারের তো অনুষ্ঠিত আন্তঃসংসদীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে শুক্রবার স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ৩৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে বাংলাদেশ  এবং একইদিনে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানের সঙ্গে হেরে রানার্স আপ হয়।