নিউইয়র্কে আরও বড় পরিসরে যাত্রা করলো বাফা

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১০ আগস্ট ২০১৯      

অনলাইন ডেস্ক

নিউইয়র্কে বৃহৎ পরিসরে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্ট (বাফা)। প্রবাসের বেশ পুরনো এই সংস্কৃতিক সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা এ প্রজন্মর শিশুদের নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি, শুদ্ধ উচ্চারনে বাংলাভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিষেবা দিয়ে আসছিল।

পরিসর ছোট হওয়ায় স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। ফলে এটিকে আরও বড় করার পরিকল্পনা করেন বাফার কর্মকর্তারা।

শুক্রবার সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আনুষ্ঠানিক পথ চলতে শুরম্ন করলো বাফা। এ উপলক্ষে এদিন সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের স্টালির্ং এভিনিউতে বাফার নতুন কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেল থেকেই বাফার কর্মকর্তা, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও শুভান্যুধায়ীরা বর্ণিল পোশাকে সেজে সেখানে আসতে করতে শুরু করেন। শুভসূচনা লগ্নে সবাইকে ফল ও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। শুভেচ্ছা বিনিময়, কেক কাটা, সঙ্গীত পরিবেশন এবং নৈশভোজ এই চার পর্বে ভাগ করা হয় অনুষ্ঠান। উৎসবমূখর পরিবেশে তা চলে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। 

বাফার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন লেখক সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস, অধ্যাপক মতলুব আলী, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী শহীদ হাসান, নজরম্নল একাডেমির সাধারন সম্পাদক শাহ আলম দুলাল, অধ্যাপক সৈয়দ মজিবুর রহমান, মূলধারার রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী আবদুস শহীদ, সিরাজুল ইসলাম সোহাগ, এন ইসরাম মামুন, প্রখ্যাত যন্ত্র সঙ্গীত শিল্পী রেহেনা সুলতানা, নীরা কাদরি, কবি কাজী আতিক, বাফার বোর্ড চেয়ার ও সাহিত্য একাডেমির পরিচালক মোশারফ হোসেন, কবি ও নারীনেত্রী রানু ফেরদৌস, কবি সোনিয়া কাদের, শামীম আরা বেগম, ফারজানা ইয়াসমিন, আনন্দধ্বনির মানসী হাজরা, সাহিত্য সংগঠন চঞ্চায়েতের মাসুম আহমেদ, সাংবাদিক, লেখক রওশন হক, কবি, লেখক ও গীতিকার ইশতিয়াক রম্নপু, সাংবাদিক আবু সাঈদ রতন, লেখক পলি শাহীনা, এসম্বলীওম্যান কারিনাজ রেইজের প্রতিনিধি সামিরা, কবি জুলি রহমান, মার্জিয়া স্মৃতি, বাফার নৃত্য বিভাগের প্রধান নৃত্যগুরম্ন অনুপ কুমার দাশ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবুল বাসার, বাংলাবিভাগের প্রধান আনোয়ারম্নল হক লাভলু, মিতু সরকার, জাবেদ ইকবাল, জান্নাতুল আরা প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাফার প্রসার, প্রভাব নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে অন্যান্য স্টেটে বিস্ত্মার লাভ করেছে। তাদের কর্ম পরিধি ও বিস্ত্মারের জায়গাটি আরও প্রসারিত হোক আজকের দিনে তাদের প্রতি এটাই আমাদের শুভ কামনা। হৃদয়গ্রাহী এবং অনন্যসাধারন কাজের জন্যে অতিউচ্চতায় উঠে আসা এই সংগঠনটিকে এখন সবাই চেনে। তাদের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের পরিচয় এ প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের কাছে তুলে ধরছি। বক্তারা আরও বলেন, নৃত্যে, গানে, কবিতায় নিজের গুণ প্রকাশের উপযুক্ত জায়গা হলো বাফা। এ কারনে বাফাকে সহযোগিতা করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।

নৃত্যগুরু অনুপ কুমার দাশ বলেন, বাফাকে নিয়ে আমরা কতুটুক এগিয়েছি তা আপনারা দেখেছেন। এই এগিয়ে আসা বা এগিয়ে যাওয়ায় আপনারা সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন। আপনারা না থাকলে আমরা এগুতে পারতাম না। আমরা বাংলাদেশে নাচের যে ফর্ম রয়েছে সেটাকে প্রবাসী প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে চাইছি। বাংলাদেশে নাচের যে একটা বিশেষ ধরন রয়েছে সেটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকলে এই স্বপ্ন পূরণের পথে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো।

বাংলা বিভাগের প্রধান আনোয়ারম্নল হক লাভলু বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের আশাছিলো এমন একটা কার্যালয় হবে। আপনাদের আকন্ঠ সহযোগিতায় আজ সে স্বপ্ন পূরণ হলো। আমরা বাংলা শেখাই। উচ্চানর এবং আবৃত্তিতে শুদ্ধতা আনা-ই আমাদের লক্ষ্য।

মার্জিয়া স্মৃতি বলেন, আমরা যা করছি সেটা আপনাদের সন্ত্মানদের জন্যেই। আমাদের কাজের খবরটি যদি একটু সবার কাছে আপনারা পৌচ্ছে দেন তাহলে অন্যান্য প্যারেন্টরা আরও উদ্বুদ্ধ হবে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে এসেম্বলীওম্যান কারিনাজ রেইজের পক্ষ থেকে অতুলনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ফরিদা ইয়াসমিনের হাতে প্রক্লেমেশন সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়।

শেষভাগে বাফার ক্ষুদে শিল্পীদের নিয়ে কেক কেটে নতুন এই যাত্রাকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফোক ও ফিউশন ধ্যাচের গানের শিল্পী পাপী মনা।

২০১০ সালে মাত্র ২০জন শিক্ষার্তী নিয়ে যাত্রা করে বাফা। প্রতিষ্ঠার ৯ বছরের মাথায় বাফার সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও এর শিক্ষক ও শুভান্যুধায়ীর অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতায় বাফা আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ শুরু করলো। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ২১৭২ ষ্টার্লিং এভিনিউ, ব্রঙ্কস, এনওয়াই ১০৪৬২। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি