জাতিসংঘে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার স্বীকৃতির আহ্বান

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা- সমকাল

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা- সমকাল

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরিচালিত গণহত্যা মানব ইতিহাসের ভয়াবহতম হিসেবে চিহ্নিত। তবে এ গণহত্যা এখনও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়নি। গত সোমবার আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আহ্বান করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

'গণহত্যা প্রতিরোধ ও এই অপরাধের শাস্তি প্রদান, গণহত্যার শিকার মানুষদের মর্যাদা ও স্মরণ এবং এই অপরাধ প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস' বিষয়ক কনভেনশনের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, ‘পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে চলমান বা ভবিষ্যৎ যে কোনো গণহত্যা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, আজ তা নবায়নের দিন।’

রাবাব ফাতিমা বলেন, ‌‘মানব ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যাটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি। জাতিসংঘও এখন পর্যন্ত এর স্বীকৃতি দেয়নি। জাতি হিসেবে আমরা ২৫ মার্চ 'গণহত্যা দিবস' পালন করি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা গণহত্যার শিকার হয়েছিলেন, তাদের স্মরণসহ গণহত্যার শিকার বিশ্বের সব মানুষকে এই দিনটিতে আমরা স্মরণ করি।’ এ সময় তিনি ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যে ভয়াবহ নৃশংসতা সংঘটিত হয়েছে, তাও উল্লেখ করেন।

এদিকে একই দিন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘সকলের দ্বারা এবং সকলের জন্য’ শিরোনামে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় জরুরি সাড়াদান তহবিল (সিইআরএফ) আয়োজিত এক প্লেজিং ইভেন্টে যোগ দেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিইআরএফের অন্যতম সহায়তা গ্রহণকারী এবং পাশাপাশি একটি দাতা দেশ। তিনি কপবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক সহায়তা তহবিল দেওয়ার জন্য সিইআরএফ'কে ধন্যবাদ জানান। সিইআরএফ এবং এর পদক্ষেপের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন।