করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪০ বাংলাদেশি মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন আরও অনেকে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে চীনের উহান শহরে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার পর বিদেশে থাকা বাংলাদেশের নাগরিকেরাও এতে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ঠিক কত, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে দিতে পারেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত প্রকাশিত রিপোর্ট ও আমাদের প্রতিনিধিদের কাছে থেকে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনায় ৪০ বাংলাদেশি মারা গেছেন।

আমাদের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি জানান, নিউইয়র্কে একদিনে করোনা কেড়েছে ৮ বাংলাদেশির প্রাণ। এ নিয়ে নিউইয়র্কে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে ২২ বাংলাদেশির। আর যুক্তরাষ্ট্রে মোট প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ বাংলাদেশি। 

রোববার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশির মৃত্যু হয় নিউইয়র্কে। নিউইয়র্কের বাইরে মিশিগানের ডেট্রয়েট সিটি ও নিউজার্সি রাজ্যের প্যাটারসনে একজন করে বাংলাদেশি নারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

রোববার মারা যান আইটি প্রফেশনাল মির্জা নুরুল হুদা (৪৪), মোহাম্মদ আনিসুর রহমান (৭৬), জায়েদ আলম (৪৫), মোতাব্বির চৌধুরী (৬৮), বিজিত কুমার সাহা (৩৮), মোহাম্মদ শিপন মোসেন (৫৬) শফিকুর রহমান মজুমদার ও কাজী কায়কোবাদ। এরা সবাই কুইন্সের বাসিন্দা।

এদিকে বাংলাদেশিদের কমিউনিটিতে মৃত্যুর মিছিল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার হারও বহুগুণ বেড়েছে। 

ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকশ’ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর বেশিরভাগই কুইন্স, ব্রুকলীন, ম্যানহাটন ও লং আইল্যান্ডের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের অনেকেই শেষ রক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কমিউনিটির বেশ ক’জন সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে স্থানীয় টাইম টিভি চ্যানেলের কর্মকর্তা ইলয়াস খসরু ম্যানহাটানের একটি হাসপাতালে দু’সপ্তাহ ধরে ভেল্টিলেশনে রয়েছেন। সাংবাদিক ফরিদ আলম ও ফটো সাংবাদিক স্বপন হাইও করোনায় আক্রান্ত হয়ে কুইন্সের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

কমিউনিটিরর চিকিৎসক আতাউল হক গনি তার চেম্বারে করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা করে নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া জ্যাকসন হাইটসের একটি মসজিদের একজন ইমামও করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ইতালি প্রতিনিধি জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইতালিতে আরও এক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে দুজন বাংলাদেশি করোনায় মারা যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতালির মিলান শহরে অপু নামের প্রবাসী ব্যবসায়ী সোমবার দুপুরের দিকে মারা যান। মিলান শহরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন।  করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার দেশের বাড়ি ঢাকা জেলায় বলে জানা গেছে। 

এর আগে গত ২০ মার্চ রাতে করোনাভাইরাসে ইতালির মিলান শহরের বিজুত্তেরিয়ায় ৫০ বছর বয়স বয়সী বাংলাদেশি প্রাণ হারান। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চিকিৎসার পর তিনি মারা যান। পরিবারের সবাইকে নিয়ে মারা যাওয়া ওই ব্যক্তি মিলানে বসবাস করছিলেন। তিনি মিলান শহরে দীর্ঘদিন গহনার ব্যবসা করে আসছিলেন।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুতে আতঙ্ক বেড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে। গত কয়েকদিনের মধ্যে মিলান, বেরগামো, ব্রেসিয়াসহ বৃহত্তর লোম্বাদিয়া, ভারেজে, তরিনো, রোমসহ বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশিদের করোনায় আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আকবর হোসেন সুমন নামে একজন রোমে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। রোমের মন্তেভেরদে এলাকায় থাকতেন তিনি। গত ৮ দিন আগে তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে।

কামাল হোসেনের দেশের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি এলাকায়। পরিবার নিয়ে লন্ডন থাকেন। ব্যবসায়ীক কাজে রোম এসেছিলেন। সরকারি জরুরি অবস্থায় রোমে অবস্থান করছিলেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে রোমের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। 

লন্ডন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ব্রিটেনে করোনায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গত ৮ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তারা হলেন- আনোয়ারা বেগম চৌধুরী (৬৫), আলম আশরাফ (৫০), মনির উদ্দিন (৬০), হাজি ফখরুল ইসলাম, খসরু মিয়া (৪৯), হাজি জমসেদ আলী (৮০), মাহমুদুর রহমান, রেহান উদ্দিন, আফরোজ মিয়া (৬৬) ও সাঈদ হোসেন জসিম (৬৫)।

আরেক বিপর্যস্ত স্পেনের মাদ্রিদে মৃত্যু হয়েছে এক বাংলাদেশির। 

কাতারে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যু হয়েছে মৌলভীবাজারের বাসিন্দা বাংলাদেশি নাগরিকের। 

এছাড়া আফ্রিকার দেশ লিবিয়া ও গাম্বিয়ায় বাংলাদেশি মারা গেছেন একজন করে।