করোনার মধ্যেও অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশন অব নোভাস্কসিয়ার উদ্যোগে ২৪ মে গাড়ি প্যারেড ঈদ উৎসব পালিত হয়।

এই উৎসব ক্ষণিকের জন্য হলেও সবাইকে মনে করিয়ে দেয় সম্প্রীতি, সাম্যের, দেশীয় সংস্কৃতি ধারণের প্রয়োজনীয়তা। অংশগ্রহণকারী সব পরিবার কানাডার করোনা নিয়ম মেনে নিজ নিজ গাড়িতে করে প্যারেডে অংশগ্রহণ করেন আগে থেকে দেওয়া দিক নির্দেশনা অনুযায়ী।

হালিফাক্স লাইব্রেরী থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক শিটাডেল হিল হয়ে ওয়াটার ফ্রন্ট এ যেয়ে শেষ হয়। কভিড ১৯ প্রবাসীদের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিতে পারে নি। যতটুকু সম্ভব ঈদের আনন্দটুকু দিতে চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশন অব নোভাস্কসিয়া।

সবাই নির্দিষ্ট দুরত্বে থেকে সমবেতভাবে ‘ঈদ মোবারক’ বলেছেন, রঙবেরঙ এর বেলুন উড়িয়ে, ঈদের ড্রেস পরে ঈদ উৎসব উদযাপন করেছেন। শিশুরা পরিচিত হতে পেরেছে বাংলাদেশের ঈদ উৎসবের সঙ্গে। আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করে প্রবাসীরা কিছুক্ষণের জন্য যেন বাংলাদেশেই ফিরে গিয়েছিলেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে করোনার কারণে ঈদে কাছাকাছি থাকতে না পারার কষ্টটা হয়তো এই অনুষ্ঠানে কিছুটা লাঘব করেছেন। প্রবাসে তারা বাংলাদেশের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ তুলে ধরছেন।

সংগঠনের সেক্রেটারি মো. গোলাম কিবরিয়া তালুকদার বলেন, ‘করোনার কারণে সবাই যখন ঘরে বন্দি, ঈদ যখন বিবর্ণ ঠিক তখন করোনার মধ্যে আতংকিত না হয়ে বরং সচেতন হয়ে আনন্দ উপভোগ করেছি। দেশটির নিয়ম মেনে সুশৃঙ্খলভাবে করোনার মধ্যেও ব্যতিক্রম ঈদ পারেড নোভাস্কশিয়ার সকল বাঙালির তথা অন্য কমিউনিটির লোকদের কাছে অনুকরণীয় আর স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক চেয়ারপারসন ড. আযহারুল হক বলেন, ‘কভিড আমাদের ঈদ কেড়ে নিতে পারেনি। বর্তমান বাস্তবতার অনন্য পরিস্থিতিতে আমাদের একটি অনন্য ঈদ উদযাপন ছিল এটি। নিরাপদে থাকুন, ইতিবাচক থাকুন।’

সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত জুম মিটিংয়ের সময় সংগঠনের সভাপতি ড. আহসান হাবিব, মেম্বার ফাইনান্স মেহেদি করিম, সংস্কৃতি সম্পাদক রেজায়ি রাব্বি, কার প্যারেড অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক জাবেদ রাব্বানি, হাসিব খান বাংলাদেশ কমিউনিটি এসোসিয়েশন অব নোভাস্কসিয়ার পক্ষ থেকে আগত সবাই কে প্রাণঢালা অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

জুম মিটিং এ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সবাই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মেতে ওঠেন নানা গল্প-আড্ডায়, যেখানে আড্ডার মূল বিষয় ছিল করোনা। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই শারীরিক সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজন না হলে সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানান।