ঢাকা শুক্রবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৩

বোস্টনে বেইন নির্বাচন

পাতানো নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না: খোকা

পাতানো নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার প্রশ্নই উঠে না: খোকা

ছবি: সমকাল

ছাবেদ সাথী, যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৩ | ০৪:০৮ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২৩ | ০৪:২৩

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউ ইংল্যান্ড (বেইন) এর নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে খোকা-সাজু-রাজিব পরিষদ। 

সভাপতি প্রার্থী মাহবুব-ই-খোদা (খোকা) যুক্তরাষ্ট্রের বলেন, এ ধরনের পাতানো নির্বাচনের ফলাফল আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। পরিকল্পিত ওই ফলাফল মেনে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা করে নির্বাচন কমিশন জোরপূর্বক অগ্রিম ৬৯৪ ভোট যুক্ত করে আমার পরিষদের অনুমতি ছাড়াই সেগুলো গণনা করে এক তরফাভাবে ফলাফল ঘোষণা করেছে। খবর যুক্তরাষ্ট্রের বাংলা সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস’র।    

তিনি বলেন, বোস্টনে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করেছিলাম। আমার শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা সম্পর্কে অভিযোগ করে আসছিলাম, কিন্তু আমাদের কথা কেউই কর্ণপাত করেননি। এসব বিষয় নিয়ে শেষে আদালতে দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আদালত তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য বিশেষ করে সংবিধান পরিপন্থী ডাক যোগে ভোট গ্রহণ ও আগাম ভোট গণনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রধান সালাউদ্দিন খান সৈকত নিজের ক্ষমতাবলে একচেটিয়াভাবে আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই আগাম ভোট গণনা করেন। এসময় আমার পরিষদের প্রতিনিধিরা আপত্তি জানালে নির্বাচন কমিশনের প্রধান তাদের হল থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। কিন্তু তারা নির্বাচন কমিশনের শেষ কর্মকাণ্ড দেখা পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিলেন। 

‘শেষে আমরা জানতে পারি নির্বাচন কমিশন জোরপূর্বক ৬৯৮ অগ্রিম ভোট (এক সপ্তাহ আগে রাতের অন্ধকারে গ্রহণ করা)  যুক্ত করে আমার পরিষদের অনুমতি ছাড়াই সেগুলো গণনা করে এক তরফাভাবে যে ফলাফল ঘোষণা করেছেন।’ 

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেইনের সাবেক সভাপতি শাহীন খান, শহিদুল ইসলাম প্রিন্স, ওসমান গণি, শেখ বাহাউদ্দিন সুমন ও হুমায়ুন মোর্শেদ।

এদিকে, বেইনের নির্বাচনে গত দুদিনের শুক্র ও শনিবার (১০ ও ১১ নভেম্বর)  ফলাফলে খোকা-সাজু-রাজিব পরিষদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের পথে এগিয়ে রয়েছেন। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের আদেশের।

লরেন্স সুপরিয়র কোর্টের বিচারক জেনিস ডব্লিউ. হাউ-এর পূর্বঘোষিত নির্দেশনায় অগ্রিম ভোট গণনা বাতিল হলে সভাপতি পদে মাহবুব-ই খোদা ৬৭৯ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তানভির মুরাদকে পরাজিত করবেন। 


নির্বাচন কমিশন বিচারকের নির্দেশ অমান্য করে খোকা-সাজু-রাজিব পরিষদের প্রতিনিধিদের অসম্মতিতে জোরপূর্বক অগ্রিম ভোট (এক সপ্তাহ আগে রাতের অন্ধকারে গ্রহণ করা) ৬৯৪টি ভোট যুক্ত করে তানভির মুরাদসহ তার প্যানেলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন । দুদিনের প্রাপ্ত ভোটে খোকা-সাজু-রাজিব পরিষদ বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

শুক্র ও শনিবার (১০ ও ১১ নভেম্বর) নির্বাচনের প্রায় ৬ হাজার ভোটারের মধ্যে মোট ভোট দেন ১ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে খোকা পেয়েছেন ১ হাজার ১ ৫৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তানভির মুরাদ পেয়েছেন ৪৭৫ ভোট। নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সহসভাপতি পদে সাজ্জাদুর রহমান সাজু পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৯ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. তাজ উদ্দিন পেয়েছেন ৪৪১ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে রাজিবুর রহমান রাজিব পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৮ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শান্তা বাকী পেয়েছেন ৫৫৯ ভোট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আশিকুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৭ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাশিবুল আমিন সৈকত পেয়েছেন ৪৫৪ ভোট। 

সাংগঠনিক ও দপ্তর সম্পাদক পদে জহিরুল হুসেইন পেয়েছেন ১ হাজার ১২৬ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রিতম বড়ুয়া পেয়েছেন ৪৮৭ ভোট। কোষাধ্যক্ষ পদে মনিরুজ্জামান খান পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৯ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইবনুল হাসান ইপু পেয়েছেন ৪৬৮ ভোট। 

যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ পদে এডি শুভ পেয়েছেন ১ হাজার  ১৩৬ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেলিনা চৌধুরী পেয়েছেন ৪৭৮ ভোট। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রেহানা পারভীন ইতি পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৩ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাহের নোহা আহমেদ পেয়েছেন ৪৭৩ ভোট। 

যুগ্ম সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে মৌসুমি রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ১৫১ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নাসরিন শাহরিয়ার পেয়েছেন ৪৫৯ ভোট। সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে বিএম রায়হানুজ্জামান পেয়েছেন ১ হাজার ১২৪ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ইসতিয়াক আহমেদ পেয়েছেন ৪৭৭ ভোট। 

ক্রীড়া সম্পাদক পদে একরামুল পিজন পেয়েছেন ১ হাজার ১০১ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুর মোহাম্মদ পেয়েছেন ৫১৯ ভোট। 

শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক পদে আমিন হোসেন পেয়েছেন ১ হাজার ১৩১ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. মেরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৪৭৪ ভোট। গণসংযোগ সম্পাদক পদে পঙ্কজ চন্দ্র দাস পেয়েছেন ১ হাজার ১০৭ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাসুদ আকবর পেয়েছেন ৪৯৮ ভোট। নির্বাহী সদস্য পদে (এক) এসএম সাইফুর ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১১২ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আমতিয়াজ উদ্দিন পেয়েছেন ৪৯৮ ভোট এবং নির্বাহী সদস্য পদে (দুই) পদে মো. মাসুদ রানা পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৪ ভোট, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আব্দুল কাদের পেয়েছেন ৪৫৮ ভোট। ফলাফল থেকে অগ্রিম ৬৯৪ ভোট বিয়োগ করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনার সালাউদ্দিন খান সৈকত অপর প্যানেল তানভির-তাজ-শান্তা পরিষদে সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগ পাওয়া যায়। ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের এক সপ্তাহ আগে তানভির-তাজ-শান্তা পরিষদকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন শহরে গিয়ে রাতের অন্ধকারে ভোট গ্রহণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগ ছিল গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ‘ডাকযোগে ভোট প্রদান’ প্রক্রিয়া। শুরু থেকেই খোকা-সাজু-রাজিব পরিষদ ডাকযোগে ভোট প্রদানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন খোকা-সাজু-রাজিব পরিষদের কোনো অভিযোগকে গুরুত্ব দেননি। ফলে নিরুপায় হয়ে খোকা-সাজু-রাজিব পরিষদ আদালতের শরণাপন্ন হন। 

আইনজীবীর করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) ম্যাসাচুসেটসের দেওয়ানী কার্যবিধি বিধির ৬৫ ধারায় উক্ত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন বিচারক।

নির্বাচন কমিশনার সালাউদ্দিন খান সৈকত আদালতের নিষেধাজ্ঞা মাথায় রেখে আমরা সংবিধান মোতাবেক শুক্রবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ভোট ও শনিবার (১১ নভেম্বর) দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ করার কথা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলা সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেসকে জানালেও সেটি তিনি পালন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বেইনের কার্যকরী পরিষদের ১৫টি পদের জন্য এবারে দুটি প্যানেলে ৩০ প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হয়। 
 

আরও পড়ুন