সম্প্রতি তুরস্কে চীনা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক কর্তৃক উৎপাদিত করোনার টিকা গ্রহণ করেছন দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর সামসুনে অবস্থিত লিভ হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. হাকান লাবলেবিজলো।

সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, টিকা নেওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ অতিক্রান্ত হতে চলেছে অথচ তিনি এখনও কোনও ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করেননি। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।

চীনা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক কর্তৃক উৎপাদিত টিকা সম্পর্কে অভিমত চাওয়া হলে প্রফেসর ড. হাকান  বলেন, এখন পর্যন্ত উদ্ভাবিত অন্যান্য করোনার ভ্যাকসিনের তুলনায় তাদের ভ্যাকসিন কিছুটা আলাদা, কেননা এখানে ভাইরাল ভেক্টর কিংবা এমআরএনএ এর পরিবর্তে সরাসরি নিষ্ক্রিয় ভিরিয়ড কণা ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মূলত ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলাকালীন  যে সকল স্বেচ্ছাসেবী সেখানে অংশ নিয়েছিলেন তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার কারণে কার্যকারিতার ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

প্রফেসর ড. হাকান মনে করেন, কোনো একটি দেশ তখনই করোনাভাইরাস নির্মূলে সক্ষম হবে যখন সে দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ মানুষকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে। এমনকি যারা ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরকেও তিনি ভ্যাকসিন গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন।

প্রথম ডোজের টিকা দেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজের টিকা কতোটুকু গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বাজারে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী যে সকল টিকা এসেছে সবই দুই ডোজের। প্রথম ডোজের টিকা নেওয়ার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আপনার শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে সেটা আংশিকভাবে করোনা প্রতিরোধে আপনাকে সুরক্ষা দিবে, এজন্য পরিপূর্ণ টিকার সুফল পেতে দুই ডোজের টিকা সবাইকে গ্রহণ করতে হবে।

টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অতীতে যে সকল টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় সকল টিকার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিলো, এমনকি আজকের দিনেও টিটেনাসের টিকা গ্রহণের ফলে অনেকে গায়ে ব্যথা ও জ্বর অনুভব করেন। তবে ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সব সময় চেষ্টা করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াকে যতোটা সম্ভব কমিয়ে আনতে, করোনা ভাইরাসের টিকায়ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে এবং এটা অস্বাভাবিক কোনো কিছু নয়। তাই টিকা গ্রহণের পর সবাইকে নিয়মিত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।