ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

‘পৃথক পালঙ্ক’ কবিতা, প্রেম আর জীবনের উদ্ভাস

‘পৃথক পালঙ্ক’  কবিতা, প্রেম আর জীবনের উদ্ভাস

ছবি: রেহান জামিল

আরফুমান চৌধুরী

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৩৩ | আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৩৪

যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে বিশ বছর ধরে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে উদযাপিত হয়ে আসছে নাট্যোৎসব ‘আ সিজন অব বাংলা ড্রামা।’ এবাবের উৎসব ছিল প্রায় মাসব্যাপী (১-২৬ নভেম্বর)। উৎসবটির এ বছরের থিম ‘অ্যাক্ট অব লাভ’। এ থিমকে কেন্দ্র করেই বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ইউকের পরিবেশনায় গত ২৫ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের ব্র্যাডি আর্টস অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে মঞ্চস্থ হলো নাটক ‘পৃথক পালঙ্ক’। 

কবিতাকে কেন্দ্র করে দুজন কবির চিন্তা, কথা–বার্তা, সর্বোপরি যাপিত জীবন ঘিরেই নাটকটি আবর্তিত। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ইউকের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘আ সিজন অব বাংলা ড্রামা’র জন্য নাটকটি রচনা করেছেন বুলবুল হাসান। তিনি দক্ষতার সঙ্গে কবি আবুল হাসান ও কবি সুরাইয়া খানমের কবিতা, প্রেম ও তাঁদের জীবনের চলমান বাস্তবতার সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে আনতে চেষ্টা করেছেন নাটকটিতে। 

সমান্তরাল প্রেক্ষাপটে নিয়ে এসেছেন ইংরেজ কবি টেড হিউজ ও সিলভিয়া প্লাথের কবিতা ও ভালবাসার গল্প। নাটকটি রচনা ও মঞ্চায়নের ক্ষেত্রে একটি প্রেক্ষাপট রয়েছে। চলতি বছর জুলাই মাসে নিজের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তাঁর বক্তব্য শুরু করেন কবি আবুল হাসানের কবিতা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে–‘যতদূর থাকো ফের দেখা হবে। কেননা মানুষ/ যদিও বিরহকামী কিন্তু তার মিলনই মৌলিক।’ 

দিনটিকে তিনি উৎসর্গ করেন কবি আবুল হাসানকে। ‘পৃথক পালঙ্ক’ কবি আবুল হাসান রচিত তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ, যে গ্রন্থটি কবি উৎসর্গ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও কবি সুরাইয়া খানমকে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও কবি মোশতাক আহমদ কবি আবুল হাসানের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে ‘ঝিনুক নীরবে সহো’ শিরোনামে একটি ডকুফিকশন রচনা ও প্রকাশ করেন। এই ডকুফিকশন তৈরির ক্ষেত্রে লেখক যে প্রচুর গবেষণা করেছেন, তা পাঠকের কাছে সহজেই অনুমেয়। গ্রন্থটি বুলবুল হাসানকে তাঁর নাটকটি লেখার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করেছে। নাট্যকার যখন এ বছরের নাট্যোৎসবকে কেন্দ্র করে ‘পৃথক পালঙ্ক’ নাটকটির প্রস্তাব করেন, তখন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ইউকের পক্ষে এর মঞ্চায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়ে যায়। নাটকটিতে নির্দেশনা দিয়েছেন সৈয়দা সায়মা আহমেদ। 

আবুল হাসান ও সুরাইয়া খানমের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বুলবুল হাসান ও সৈয়দা সায়মা হোসেন। নির্মলেন্দু গুনের চরিত্রে স্যান রাজ্জাক বাঁধন এবং টেড হিউজ ও সিলভিয়া প্লাথের ভূমিকায় ছিলেন মার্ক ফোল্ডস ও ডেবোরাহ পাইক এবং নৃত্যে সাকিবা চৌধুরী মৌ। সহকারী নির্দেশক ছিলেন দীপ্তি অনুপম, আলোক নির্দেশনায় জুলস। বর্ণনায় কণ্ঠ দিয়েছেন মাইকেল সার্চ এবং কবিতায় সাদেক আহমদ চৌধূরী সাদী ও আরফুমান চৌধুরী। পোশাক পরিকল্পনা ও সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন খাদিজা রহমান। রূপসজ্জায় ও মঞ্চে সহযোগিতা করেছেন তাসলিমা পারভীন সীমা, শাহনীলা রহমান, জহুরুল ইসলাম রাসেল, ফিরোজ আহমেদ বিপুল ও আদনীন তারান্নুম সারথী। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ইউকের সদস্যরা। 

কানায় কানায় পূর্ণ দর্শক-গ্যালারি, নাট্যদৃশ্যের ভিন্ন ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের অভিব্যক্তির গুঞ্জন ও নীরবতা জানিয়ে দিচ্ছিল নাটকটির প্রতি তাদের ভালোবাসা আর মুগ্ধতার কথা।

দর্শকরা জানান, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ‘আ সিজন অব বাংলা ড্রামা’ লন্ডনে বসবাসকারী বাঙালির কাছে কেবল একটি উৎসবই নয়, এটি এখন সাংস্কৃতিক-সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। এ উৎসবের জন্য তাঁরা বছরজুড়ে অপেক্ষায় থাকেন।
 

লেখক: সদস্য, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, ইউকে 
 

আরও পড়ুন

×