দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ এর উপর নির্মাণাধীন প্রামাণ্যচিত্র 'একটি দেশের জন্যে গান' এ কণ্ঠ দিয়েছেন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর। নিউইয়র্ক থেকে 'ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম' এর ব্যানারে প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করছেন লেখক ও সাংবাদিক শামীম আল আমিন।

মঙ্গলবার ঢাকার ইস্কাটনের ধ্বনিচিত্র স্টুডিওতে প্রামাণ্যচিত্রটির সম্পূর্ণ ধারাবর্ণনায় কণ্ঠ দেন আসাদুজ্জামান নূর। বাংলা ভাষায় নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রে ইংরেজি সাবটাইটেল থাকবে। পাশাপাশি প্রামাণ্যচিত্রের স্ক্রিপ্টও লিখেছেন শামীম আল আমিন। 

নির্মাতা জানিয়েছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর এই বছরে ঐতিহাসিক সেই কনসার্টেরও ৫০ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এমন একটি অসাধারণ সময়ে প্রামাণ্যচিত্রটির কাজ প্রায় শেষের দিকে।   

শামীম আল আমিন বলেন, ঐতিহাসিক সেই কনসার্টকে ঘিরে এমন উদ্যোগে আসাদুজ্জামান নূরের মতো একজন কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণ কাজটিকে অনেক সহজ ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলবে। অন্য অনেকের মতো আমারও ছেলেবেলায় নায়ক আসাদুজ্জামান নূর। যখন দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের কথা ভেবেছি, তখন থেকেই ভাবনাজুড়ে ছিল ধারাবর্ণনার কণ্ঠটি হওয়া চাই তার। প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকেন। রাজনীতিতেও আলোকিত মুখ। ফলে সাংস্কৃতিক কাজের বাইরেও, তাকে জড়িয়ে থাকতে হয় অন্য অনেক কিছুতে। তিনি বলেছিলেন, এই কাজে অবশ্যই সঙ্গে থাকতে চান তিনি। আমি অপেক্ষা করেছি। অবশেষে তার দরাজ কণ্ঠে মূর্ত হয়ে উঠলো দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ। 

প্রামাণ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কনসার্টে অংশ নেয়া ওস্তাদ আলী আকবর খাঁর বড়ছেলে ওস্তাদ আশীষ খাঁ, আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিন, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অ্যালাবামার ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশনের এমিরেটাস প্রফেসর জেমস অকোয়েন, খ্যাতিমান লেখক জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, কনসার্টের প্রত্যক্ষদর্শী লিন্ডা অ্যান্তোনোসি, কাজী সাহিদ হাসান এবং অভীক দাশ গুপ্ত। 

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অসামান্য এক কীর্তি “দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ”। যার উদ্যোক্তা ছিলেন একসময়ের সাড়াজাগানো ব্যান্ডদল দ্য বিটলস এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক রবি শঙ্কর। সেই আয়োজনে যুক্ত হয়েছিলেন আরও অনেক খ্যাতিমান শিল্পী। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনের সেই কনসার্টটি নানা কারণেই ইতিহাসের অনবদ্য অংশ। 

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট, রোববার অনুষ্ঠিত কনসার্টের দুটি শো আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে ভীষণ আবেগের। আর বিশ্ববাসীর জন্যে এখনো তা মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ। ইতিহাস বলে, পৃথিবীর বুকে সেটাই ছিল প্রথম কোন চ্যারিটি কনসার্ট।