স্লোভেনিয়ায় বাংলাদেশের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত দেশটির রাষ্ট্রপতি বরুট পাহোরের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। 

মঙ্গলবার সকালে স্লোভেনিয়ার রাজধানী লুবলিয়ানাতে অবস্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে দেশটির রাষ্ট্রপতির কাছে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত তার পরিচয়পত্র পেশ করেন। 

এসময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাসের চিফ অব মিশন রাহাত বিন জামান এবং দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি মো. তারাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরিচয়পত্র পেশ করার পর স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রপতি বরুট পাহোর এবং রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুহিতের মাঝে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্লোভেনিয়া কাউন্সিল অব দ্যা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুহিতের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রপতি বরুট পাহোরকে অভিনন্দন জানানো হয়। 

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার যে অনন্য নিদর্শন বাংলাদেশ স্থাপন করেছে, সে বিষয় উল্লেখ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দীর্ঘস্থায়ীভাবে মিয়ানমারের নাগরিকদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে স্লোভেনিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুহিত বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। তাই উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে এবং একইসঙ্গে স্বাধীনতার প্ল্যাটিনাম জয়ন্তীতে অর্থাৎ ২০৪১ সালের মধ্যে যাতে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে সেজন্য এ দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরকে সুষ্ঠু ও সহজভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্লোভেনিয়ার সমর্থন চাই। 

স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রপতি বরুট পাহোর আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রপতি বরুট পাহোর বলেন, পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত যে কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এবং স্লোভেনিয়া বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে একে অন্যের পাশে থাকবে।

রাষ্ট্রদূত আব্দুল মুহিত স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রপতি বরুট পাহোরকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি বরুট পাহোর তার এ আমন্ত্রণকে গ্রহণ করেন এবং আগামী বছরে বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রদূত মুহিতকে স্লোভেনিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

মন্তব্য করুন