গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সাথে সাথে কাকতালীয়ভাবে বিদ্বেষ আর সহিংসতাসহ এশীয়-আমেরিকান বিরোধী মনোভাব বেড়েছে। দেশটিতে বসবাসরত ৮৩ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক এশীয় জানিয়েছে, গত বছর তারা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক হাজার প্রাপ্তবয়স্ক এশীয়ানের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। বেসরকারি ডাটা ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি 'মর্নিং কনসাল্ট' গত ২৪-৩০ মার্চ পর্যন্ত ওই জরিপ পরিচালনা করে।

জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ এশীয় জানিয়েছে, এশীয়-বিরোধী বর্ণবাদ এবং সহিংসতার প্রতিবেদন তাদের মানসিক স্বাস্থের ওপর প্রভাব ফেলেছে। এদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ জানিয়েছে ,করোনার প্রাদুর্ভাব তাদেরকে মানসিকভাবে আরও অসুস্থ করে তুলেছে। ৪১ শতাংশ এশীয় বলেছে, গত এক বছর ধরে তারা হতাশায় ভুগছেন। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫৩ শতাংশ এই বৈষম্যের জন্য প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ’সম্পূর্ণভাবে দায়ী’ করেছেন।

গত মাসে জর্জিয়ার আটলান্টা শহরের তিনটি স্পাতে শ্যুটিং তাণ্ডবসহ এশীয়ান আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সহিংস আক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর পরিচালিত জরিপে এই চিত্র উঠে আসে।  ওই ঘটনায় ছয়জন এশীয়ান নারী নিহত হন। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এশীয়-আমেরিকান বিরোধী মৌখিক ও অনলাইন হয়রানি, শারীরিক লাঞ্চনা এবং নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত মোট ৩৭৯৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে ওই  জরিপে উল্লেখ করা হয়। এতে দেখা যায়, পুরুষের চেয়ে নারীদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণেরও বেশি বিদ্বেষের ঘটনা ঘটেছে। আর সবচেয়ে বেশি বিদ্বেষের সম্মুখীন হয়েছেন চীনারা। এর পরই রয়েছে কোরিয়ান, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপিনোরা । বৈষম্যের প্রধান ক্ষেত্র ব্যবসা হলেও এশীয়-আমেরিকানরা পাবলিক স্ট্রিট, পাবলিক পার্কস আর অনলাইনেই বেশি বৈষম্যের শিকার হন।

ইলিনয়ের ডিপল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল কমিউনিটি সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অ্যান শোবলেন বলেন, এশীয় বিরোধী মনোভাব সব জায়গাতেই আছে। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবের সময়ে প্রকৃত অর্থেই কিছু ঘটছে যা অধিকাংশ এশীয়-আমেরিকানের উপর প্রভাব ফেলছে। আর এই সমস্যার বিস্তৃতি দেখাতে জরিপের পরিসংখ্যান প্রকৃত অর্থেই বেশবড়।

মন্তব্য করুন