করোনায় আক্রান্ত হয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত এক বছর ২৬ দিনে ২৪৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশি মারা গেছে। আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটে গত বুধবার পর্যন্ত এ তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল। মিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২০২১ সালে আবুধাবিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১১ জন। দুবাই ও উত্তর আমিরাতে করোনায় মারা গেছেন ১৩৭ জন। তবে দূতাবাসে এক কর্মকর্তা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে করোনায় মারা যাওয়া প্রবাসীদের তথ্য পাচ্ছেন না তারা।  

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রবাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক প্রবাসীর পরিবার পাবেন তিন লাখ টাকা অনুদান পাবে। এ অনুদান পেতে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে লাগবে মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট ফটোকপি, দূতাবাসের প্রত্যায়ন পত্র, মৃত্যু সনদ, চেয়ারম্যান সনদ, দায়মুক্তি সনদ, অঙ্গীকারনামা, ক্ষমতা অর্পণ পত্র ও ব্যাংক হিসাব নম্বর। সরকারি এই অনুদান পাওয়া যাচ্ছে কি-না জানতে সমকালের পক্ষ থেকে মৃত কয়েক প্রবাসীর পরিবারে খোঁজখবর করা হয়। এতে জানান যায় এখন পর্যন্ত অনুদানের জন্য কেউ কেউ আবেদন করলেও অনেকেই আবেদন করেননি।

এর মধ্যে দুবাইতে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ মাহবুব আলম প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় কেফায়েত নগরে তার বাড়িতে বর্তমানে রয়েছেন স্ত্রী নিলু আক্তার ও তিন ছেলে জাহেদুল আলম (২০), শহীদুল আলম (১৯) ও অহিদুল আলম (১৭)।

মাহবুব আলমের ছেলে জাহেদুল আলম সমকালকে জানান, উপযুক্ত অভিভাবক না থাকায় সরকার ঘোষিত এ আর্থিক অনুদান পেতে এখনো আবেদন করতে পারেনি তার পরিবার। তবে এ ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য তৌহিদুল আলম।

চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আমিরাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান হাটহাজারী উপজেলার সালাউদ্দিন আলমগীর। তার পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে আর্থিক অনুদানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেছেন তারা। তবে লকডাউনে আটকে আছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর।

সালাউদ্দিন আলমগীরের ভাই ইফতেখার উদ্দিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় আর্থিক অনুদান পেতে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র তৈরি করেছি। কিন্তু লকডাউন থাকায় নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর নিতে পারিনি। স্বাক্ষর হয়ে গেলে আশা করছি দ্রুত কাজ সম্পন্ন হবে।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর ফাতেমা জাহান বলেন, করোনায় মারা যাওয়া প্রবাসীরা এই অনুদান পাবেন। আমরা এনওসি (অনাপত্তি পত্র) ইস্যু করে দিচ্ছি। এটির সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্রসহ মৃত ব্যক্তির পরিবার থেকে আবেদন করতে হবে। যে কোনো সহযোগিতা ও পরামর্শের জন্য স্বজনরা দূতাবাস ও কনস্যুলেটেও যোগাযোগ করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তি নয় বরং প্রবাসে মারা যাওয়া প্রত্যেক বৈধ প্রবাসী এবং দেশে ছুটিতে গিয়ে ছয়মাসের মধ্যে মারা যাওয়া প্রবাসীরাও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক তিন লাখ টাকার এ আর্থিক অনুদানের আওতাভুক্ত রয়েছেন।

মন্তব্য করুন