দীর্ঘদিন সংযুক্ত আরর আমিরাতের শ্রমিক ভিসা বন্ধ। ভ্রমণ ভিসায় প্রবেশ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় কর্মের সন্ধানী বাংলাদেশিদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে দেশটিতে। 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র না নেওয়ায় গত দুই বছরে কী পরিমাণ বাংলাদেশি আমিরাতে প্রবেশ করেছেন তার সংখ্যা জানা নেই কারো। তবে অনুমান করা হচ্ছে, গত দুই বছরে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি কর্মের সন্ধানে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আমিরাতে। সঠিক পরিসংখ্যান ও কর্মীদের বৈধতা নিশ্চিতকরণসহ মানবপাচার রোধে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে নতুন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমনে ইচ্ছুকদের জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর নিবন্ধন করার জোর আহ্বান জানিয়েছে দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

কনস্যুলেটের একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, দেশ থেকে যেসকল কর্মী কাজের সন্ধানে কিংবা কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসতে আগ্রহী তাদের বিএমইটি’র নিবন্ধন করে আসা জরুরি। নিবন্ধন করা থাকলে সঠিক পরিসংখ্যান জানা সম্ভব। এতে করে মানবপাচারের ঝুঁকিও কমে। তা ছাড়া নিবন্ধিত কর্মীরা সরকারের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধার আওতায় থাকেন।

কনস্যুলেটের একজন কর্তা বলেন, ভ্রমণ ভিসাধারীদের কেউ যদি অভিযোগ করেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন, কাজ করলে বেতন পাচ্ছেন না কিংবা যে কাজ দেওয়ার কথা সেই কাজ পাচ্ছেন না। ভ্রমণ ভিসায় থাকা অবস্থায় এসব অভিযোগ নীতিগতভাবে সাংঘর্ষিক। কারণ, ভিসা অনুযায়ী তিনি একজন পর্যটক মাত্র। এসব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তখনই কর্মীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব যখন তারা বৈধ ভিসাধারী হবেন। বৈধকর্মীদের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তায় এগিয়ে আসা সহজ।

এদিকে দেশটিতে বসাবসরত প্রবাসীরা বলছেন, বর্তমানে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে কাজের সন্ধানে আসা কর্মীদের বেশিরভাগই কাজের নিশ্চয়তা ছাড়াই আসছেন। 

ভ্রমণকারীদের ধারণা, আমিরাত প্রবেশের পর ধীরে-সুস্থে কাজ খুঁজে নেওয়া যায় কাজ। কিন্তু অধিকাংশের কাজ খুঁজতে খুঁজতে শেষ হয়ে যায় ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ। মেয়াদ শেষে তড়িঘড়ি করে কর্মসংস্থান ভিসা নিতে গিয়ে নামমাত্র মূল্যে শ্রম বিক্রিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন তারা। এতে করে পুরাতন কর্মীদের কর্মস্থলে বেতন কমে যাওয়া ও ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। আবার ভিসার ধরন পরিবর্তনের সুযোগ না পেয়ে অনেকে অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের লেবার কাউন্সিলর ফাতেমা জাহান বলেন, বিদেশে দক্ষকর্মীর চাহিদা অনেক। কাজের সন্ধানীদের বিষয়ভিত্তিক কাজের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা থাকলে কাজের নিশ্চয়তাও বেড়ে যায়। যেহেতু ভ্রমণ ভিসা নিয়ে কর্মীরা কর্মসংস্থানের খোঁজে আমিরাত আসছেন তাই তাদের কাজের নিশ্চয়তাসহ বিএমইটি’র নিবন্ধন নিয়ে আসা প্রয়োজন। যাতে করে কর্মস্থলে তাদের যেকোনো সুবিধা-অসুবিধায় আমরা সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পারি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ভিজিট ভিসায় আসা যেসকল কর্মী কর্মসংস্থান ভিসা নিয়েছেন, বৈধভাবে কাজ করছেন তারাও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হয়ে গেলে সরকারি সকল সুবিধা পাবেন।

মন্তব্য করুন