বাইরের দেশ থেকে যেন করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট আসতে না পারে সেজন্য কানাডা সরকার ভারত ও পাকিস্তানের সব ধরনের ফ্লাইট দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।  কমপক্ষে ৩০ দিন এই আদেশ বলবৎ থাকবে।

কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যম কানাডিয়ান প্রেস জানায়, উভয় দেশে করোনায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় ফেডারেল সরকার পরবর্তী এক মাসের জন্য ভারত ও পাকিস্তান থেকে আগত ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

পরিবহনমন্ত্রী ওমর আলঘব্রা বলেন, ভারত ও পাকিস্তান থেকে কানাডায় আগত বিমানের যাত্রীদের মধ্যে বেশি সংখ্যক কোভিড -১৯ শনাক্ত হওয়ায় সেসব দেশ থেকে সরাসরি যাত্রী বিমান চলাচল বন্ধ করার জন্য এয়ারম্যানকে বা নোটমকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উভয় দেশ থেকে সমস্ত বাণিজ্যিক এবং ব্যক্তিগত যাত্রী বিমান নিষিদ্ধ থাকবে, তবে বিশেষত ভ্যাকসিন এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের চালনা অব্যাহত রাখতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য কার্গো ফ্লাইটগুলির অনুমতি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে ভারতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ লাখ ১৪ হাজার নতুন সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী নতুন রেকর্ড গড়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়। কানাডায় ভ্যাকসিনের চালানগুলি ভারত কমপক্ষে জুন পর্যন্ত স্থগিত করেছে।

বিশিষ্ট কলামিস্ট, উন্নয়ন গবেষক ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক মো. মাহমুদ হাসান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কোভিড-১৯ এর নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক উপস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বিমান যোগাযোগের ঘোষণা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আর ভ্যাকসিন প্রদানের গতিকে আরও দ্রুততর না করা অবধি জনমনে শঙ্কা দূর করতে এমন সতর্কতামূলক পদক্ষেপে নিয়ে এগুনো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

কানাডায় গত বছরের মার্চ মাসে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ব্রিটিশ কলম্বিয়ায়। তারপর থেকেই দেশটির সরকার দেশের নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে দেশটির নাগরিকদের স্বাস্থ্যের উপর গুরুত্বারোপ করেই ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। তাছাড়াও নাগরিকরা যেন দ্রুত ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আসে সেদিকেও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের সরকার।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৮৭ জন। আর মারা গেছে ২৩ হাজার ৮৮৩ জন।

মন্তব্য করুন