লন্ডনে বাঙালি কমিউনিটি দলমত নির্বিশেষে মেয়র পদ্ধতির প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানিয়েছে। শুক্রবার লন্ডনে বাংলা মিডিয়ার সঙ্গে ‘কমিউনিটি ক্যাম্পেইন ফর মেয়রাল সিস্টেমের (সিএমএস) উদ্যোগে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিউনিটির স্বার্থে যে কোনো মূল্যে মেয়র পদ্ধতিকে ধরে রাখতে বলা হয়। একইসঙ্গে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী ৬ মে মেয়র পদ্ধতির পক্ষে ভোট দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি কমিউনিটির স্বার্থবিরোধী চক্রান্তের জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান সর্বস্তরের নেতারা।

মেয়র ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে এ প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসে কমিউনিটির অর্জন মেয়র পদ্ধতি। জনগণের সেই অর্জিত ক্ষমতা কেড়ে নিতেই কাউন্সিলরদের উদ্যোগে এই রেফারেন্ডাম। জনগণের মেয়র নির্বাচনের ক্ষমতা কেড়ে নিতে বিবদমান টোরি-লেবার একাট্টা হয়েছে। তাই জনগণকেও তার ভোটের ক্ষমতা ধরে রাখতে অতীতের মতোই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অপর এক প্রশ্নে বলা হয়, ব্যক্তির ভুলের জন্য পদ্ধতি কেন বদলাবে? তারা ব্যক্তিকে ঠেকাতে গিয়ে বাঙালিদের মেয়র হওয়ার পথ আজীবনের জন্য রুদ্ধ করে দিতে চায়। তারা টাওয়ার হ্যামলেটকে বাঙালি শূন্য করতে চায়। তারা বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটে আমরা দুর্বল হলে মূলধারার রাজনীতিতেও আমরা দুর্বল হতে থাকব।

সিএমএস চেয়ার ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাসনাত এম হোসাইন এমবিই ও টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি মেয়র এম ওহিদ আহমেদ প্রেস ব্রিফিংয়ে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, লন্ডনের বাসিন্দারা যেদিন লন্ডন মেয়রের জন্য ভোট দেবেন, একই দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের ভোটারদের মেয়র পদ্ধতি তুলে দেওয়া প্রশ্নে ভোট দিতে বলা হচ্ছে। এটা হিপোক্রেসি। সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাহী মেয়র নির্বাচনের এ পদ্ধতি টাওয়ার হ্যামলেটের জনগণ ২০১০ সালে তাদের দাবি অনুযায়ী অর্জন করেন। সেবার ২০ হাজার ভোটার রেফারেন্ডামের দাবিতে পিটিশন দিয়েছিলেন, আর ৬০ হাজারের বেশি ভোটার মেয়র পদ্ধতির পক্ষে ভোট দিয়ে এ পদ্ধতি অর্জন করেছিলেন। জনগণের সেই অর্জনকে নির্বাহী ক্ষমতাবলে বাতিল করতে ৬ মে’র রেফারেন্ডাম।

তারা বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটে বাঙালি কমিউনিটি এক তৃতীয়াংশের বেশি হওয়ায় যে রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই এই বিনাশের উদ্যোগকে কমিউনিটি ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। জনগণের সমর্থন না পেয়ে কৌশল আর চাতুরির আশ্রয় নিয়েছেন তারা। চার বছরের জন্য তারা লিডার চান, মেয়র চান না। কারণ লিডার তারা নিজেরা নির্বাচন করবেন, আর মেয়র নির্বাচন করবে সরাসরি জনগণ। জনগণের ক্ষমতা কাউন্সিলরদের নিজ হাতে কেড়ে নিতে চান।

প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র পদ্ধতির প্রতি সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন কমিউনিটির প্রবীণ নেতা শামসুদ্দিন খান, দুইবারের নির্বাচিত সাবেক নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান, মাহিদুর রহমান, ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন, প্রফেসর আব্দুল কাদের সালেহ, বিবিসিসি সভাপতি বশির আহমেদ ও সাবেক সভাপতি মাতাব চোধুরী, সাংবাদিক আবু তাহের চৌধুরী, নিউক্যাসল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ার মাহতাব মিয়া, বাংলাদেশ সেন্টার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ইউকে চেয়ার মুহিবুর রহমান মুহিব, বিয়ানীবাজার ক্যানসার হাসপাতালের ট্রাস্টি শাব উদ্দিন, মাওলানা শুয়েব আহমেদ, সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন প্রমুখ।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব সভাপতি এমাদুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের এবং সাবেক সভাপতি সাপ্তাহিক জনমতের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, সৈয়দ আফসার উদ্দিন, রহমত আলীসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন।

মন্তব্য করুন