সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধারিতে অবশেষে বেতন পেলেন মানবেতর জীবনযাপন করা ব্যাইনোনা জেনারেল ক্লিনিং কোম্পানির সেই তিন শতাধিক শ্রমিক। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দূতাবাসে অভিযোগ প্রদান ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর রোববার রাতে তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে কারও তিন মাসের, কারও চার মাসের বেতন পাঠায় কোম্পানি। 

সোমবার শ্রমিকদের বেতন প্রাপ্তির বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেন আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (স্থানীয়, শ্রম) লুৎফুন নাহার নাজিম। তিনি জানান, আবুধাবির মাফরাক ক্যাম্পের তিন শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে কেউ কেউ ৩ মাসের, কেউ চার মাসের বেতন পেয়েছেন।

সোমবার ব্যাইনোনা জেনারেল ক্লিনিং কোম্পানিতে কর্মরত লক্ষ্মীপুরের মোহাম্মদ মিজান সমকালকে জানান, একই কোম্পানির দুটো আলাদা সেক্টর রয়েছে। ক্লিনিং সেক্টরে প্রায় তিনশর মতো ও লন্ড্রি সেক্টরে কাজ করেন ৩০ জনের মতো শ্রমিক। রোববার রাতে ক্লিনিং সেক্টরের শ্রমিকদের তিন মাস করে ও লন্ড্রি সেক্টরের শ্রমিকদের চার মাস করে বেতন এসেছে।

মোহাম্মদ মিজান বলেন, 'বেতনের সমস্যাটা কিছুদিন পরপর দেখা দেয়। আমরা এই কোম্পানি থেকে রিলিজ চেয়ে দূতাবাসে অভিযোগ করেছি। কারণ আমার নিজেরই ১৪ মাস ধরে ভিসা নবায়ন করেনি কোম্পানি। এমন অনেক শ্রমিক আছে বেশিরভাগের ভিসা নাই। এখন কোম্পানিও দেউলিয়া হয়ে আছে। এই অবস্থায় রিলিজ নিয়ে অন্য কোম্পানিতে কাজ করতে চাই আমরা।'

একই কোম্পানির শ্রমিক নজরুল ইসলাম বলেন, 'যত দ্রুত সম্ভব এই কোম্পানি থেকে আমরা বের হতে পারি ততই সবার জন্য ভালো। বর্তমানে অন্যত্র ভিসা নেওয়ার সুযোগ আছে। এই সুযোগটি আমরা কাজে লাগাতে চাই।

এ বিষয়ে আবুধাবি বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (স্থানীয়, শ্রম) লুৎফুন নাহার নাজিম সমকালকে বলেন, 'বর্তমানে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের মূল চাওয়া হলো ওই কোম্পানি থেকে যাবতীয় লেনদেন সম্পন্ন করে বের হয়ে যাওয়া। তারা অন্যত্র কাজ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু অধিকাংশের দেড় বছর থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময়ের জরিমানা এসেছে। এই বিষয়ে আমিরাতের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানাতে হবে। আমরা দ্রুতই ব্যবস্থা নেবো।' 

মন্তব্য করুন