মধ্য ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়ার সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারকরণের লক্ষ্যে এবং একই সাথে জাতিসংঘের ভিয়েনাস্থ কার্যালয়ে স্থায়ী মিশন হিসেবে ২০১৪ সালে দেশটির রাজধানী ভিয়েনাতে নতুন দূতাবাস চালু করে বাংলাদেশ সরকার। অস্ট্রিয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী তিন দেশ হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়ার সাথেও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুসংহত করার ক্ষেত্রে কাজ করে এ দূতাবাস।
 
অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়াতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা আট হাজারের কাছাকাছি। ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাস বর্তমানে এ অঞ্চলে বসবাস করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে আশা ও ভরসার জায়গা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অভিযোগের কথা প্রায় আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখতে পাই। তবে ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাস এক্ষেত্রে একেবারে ব্যতিক্রম। ২০১৪ সালে আবু জাফর ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়াতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ সংক্ষরণে তিনি বিশেষভাবে কাজ করেছেন। বর্তমানে মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক।

মাহবুবুর রহমান আরও যোগ করেন, দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন রাহাত বিন জামান এবং প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান তারাজুল ইসলামও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক। যে কোনো সমস্যায় তারা সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছেন।
 
হাঙ্গেরি প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তন্ময় ওবালডিন গোমেজ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবের কারণে আমাদের সবার জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলো। বিশেষত মহামারির শুরুর দিকের সময়টা ছিল খুবই খারাপ, কেননা আমরা এ ধরণের বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। মহামারির এ সময় দূতাবাস আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে। গত বছর আমরা যখন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন রাহাত বিন জামান-এর সাথে যোগাযোগ করি, তিনি আমাদেরকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি আমাদের খোঁজ-খবর রাখেন।
 
তন্ময়ের ভাষায়, হাঙ্গেরিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে ভিয়েনার বাংলাদেশ দূতাবাস হচ্ছে এক আস্থার নাম।

হাঙ্গেরি প্রবাসী অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শামছুল ইসলাম সিপার বলেন, গত বছরের এপ্রিল মাসে আমি যখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হই, তখন ইউরোপ মহাদেশে কেবলমাত্র করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু। প্রথম দিকে আমি ভীষণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি, বিশেষত পরিবার থেকে অনেক দূরে থাকায় আমার মাঝে ভয় ছিল অত্যন্ত বেশি।  দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন,  দূতাবাসের সবার প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ কারণ পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তারা আমার অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা নিয়মিতআমার শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন।

স্লোভেনিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলী তৌসিফ রহমান বলেছেন, কয়েক মাস আগে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে স্লোভেনিয়াতে এক বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। আহত থাকায় তাকে তৎক্ষণাৎ রাজধানী লুবলিয়ানার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করে ।  দূতাবাসের কর্মকর্তারা বেশ দায়িত্বশীলতার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।
 
রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেন, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া ও স্লোভাকিয়াতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে থাকতে আমাদের দূতাবাস বদ্ধপরিকর। বিদেশের মাটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন । বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আমরা চাই, প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে।



মন্তব্য করুন