সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই প্রবাসী নাজিম উদ্দিন দেশে ছুটিতে রয়েছেন। ৬ জুন দুবাই ফেরার কথা ছিল তার। তবে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দেশে আটকে আছেন তিনি। ফ্লাইট সচল হলে টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করে ফিরে আসার দিনক্ষণ গুনছিলেন। এর মধ্যেই নাজিমের মাথায় এসে ভর করে নতুন বিপত্তি। পাসপোর্টের মেয়াদ আছে তার মাত্র চার মাস। এদিকে ছুটিও শেষ। কিন্তু প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসারে চাকরি নিয়ে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে নূ্যনতম ছয় মাস। ছয় মাসের কম হলে বিমানের টিকিট ইস্যু করা হবে না। পাসপোর্টের মেয়াদ ও বিমানের টিকিট ইস্যু না হওয়ার সংশয়ে বিপত্তি বাড়ছে নাজিমের মতো এমন অসংখ্য প্রবাসীর।

দুবাই প্রবাসী নাজিম উদ্দিন জানান, ৭ জুন পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়াতে চট্টগ্রাম মনসুরাবাদ যান তিনি। ২০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পেতে সেখানে তাকে দিতে হয়েছে ছয় হাজার টাকা। টাকার চেয়েও সময় মূল্যবান জানিয়ে নাজিম বলেন, আমার ছুটি শেষ। কিন্তু পাসপোর্ট নবায়ন করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। মেয়াদ বাড়াতে গেলে নতুন করে আরও এক মাসের জন্য পিছিয়ে গেলাম। এটি আমাদের সামনে নতুন এক জটিলতা তৈরি হলো।

আবুধাবি প্রবাসী মোহাম্মদ সেকান্দার বলেন, ছুটির মেয়াদ শেষ। এখন অপেক্ষা করছি ফ্লাইট চালু হওয়ার। পাসপোর্ট সংক্রান্ত নতুন এই ঘোষণা পেয়ে চিন্তায় আছি। পাসপোর্টের মেয়াদ আছে পাঁচ মাস। এখন শুনছি ছয় মাস না হলে টিকিট পাব না। দেশে পাসপোর্ট নবায়ন করতে গেলে অতিরিক্ত এক মাস সময় লাগবে। কিন্তু ফ্লাইট খোলা মাত্রই আমার আবুধাবি ফিরতে হবে। এখন কী উপায় হবে বুঝতে পারছি না।

প্রবাসীরা বলছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এটি নতুন কর্মীদের জন্যে পুরোপুরি ঠিক হলেও জটিলতা বাড়াবে দেশে আটকে থাকা প্রবাসীদের। কারণ, আটকে পড়া প্রবাসীদের পাসপোর্ট নবায়নের বিপরীতে ছুটির মেয়াদ ও ভিসার মেয়াদ বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে; কিন্তু ফ্লাইট বন্ধ থাকায় আটকে আছেন, তারা নতুন করে পাসপোর্ট নবায়নের দিকে গেলে বড় বিপত্তিতে পড়ে যেতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও ভাবা দরকার।

দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) নুর-এ-মাহবুবা জয়া সমকালকে জানান, যেসব প্রবাসী এমন সমস্যায় পড়েছেন তারা জরুরিভিত্তিতে কম সময়ে পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারবেন। খরচ সামান্য বেশি হলেও খুব সম্ভবত তারা দ্রুত পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন। তবে ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিষয়টি পাসপোর্ট অফিসে জানাতে পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

এদিকে, ১৮ মে আবুধাবির বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে 'পাসপোর্টে তথ্যাদি সংশোধন' বিষয়ক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অনেক প্রবাসী পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের জন্য ভাবছেন। তবে নতুন করে পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের ব্যাপারে কিছু বিষয়ে প্রবাসীদের বিশেষ নজর দিতে বলছেন সংশ্নিষ্টরা। তাদের মতে, ব্যক্তিগত আইডি, মেডিকেল কার্ড, ব্যাংক কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কাগজপত্রে যে তথ্য দেওয়া আছে, পাসপোর্ট সংশোধন করলে সেসব তথ্যেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়াও যেহেতু সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রত্যেক বৈধ প্রবাসীর তথ্য সংরক্ষণ করা হয় এবং ভিসা প্রসেসিং সিস্টেম জটিল, সেহেতু ভবিষ্যতে ভিসা নবায়ন করতেও সমস্যা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে নুর-এ-মাহবুবা জয়া বলেন, পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করতে ইচ্ছুক প্রবাসীরা ভবিষ্যতে আমিরাতের দাপ্তরিক কোনো সমস্যায় পড়বেন কিনা বিষয়টি স্থানীয় তহসিল বা ইমিগ্রেশন থেকে নিশ্চিত হওয়া উত্তম। সচরাচর পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তন করলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা সমস্যায় পড়ে যান। পরে দেখা যায়, পূর্বের তথ্যে নিয়ে আসতে পুনরায় আবেদন করেন তারা।

মন্তব্য করুন