পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের দ্রুতই কন্স্যুলেট অফিস এবং দূতাবাসের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার নিউইয়র্কের কুইন্সে প্রবাসীদের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

তিনি বাংলাদেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিনের অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে ভ্যাকসিন সহযোগিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। 

জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি আলোচনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে। বাংলাদেশ ক্লাব ইউ.এস. এ.'র সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পপতি জহিরুল ইসলাম। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে খুব ভালো অবস্থায় আছে।

উন্নয়নের এমন ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরমধ্যে পার্শ্ববর্তী শ্রীলঙ্কাকে দুই বিলিয়ন ডলার দিয়ে বাংলাদেশ পাশে দাঁড়িয়েছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিনের তীব্র সঙ্কট বিরাজ করছে উল্লেখ করে ড. আব্দুল মোমেন বলেন, আমেরিকায় বহু ভ্যাকসিন মজুদ পড়ে আছে। অনেক ভ্যাকসিনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাবে। এসব ভ্যাকসিন, বিশেষ করে জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের ভ্যাকসিন বাংলাদেশ পেলে খুবই উপকার হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসীদের স্থানীয় আইন প্রণেতাদের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের উপর এ নিয়ে চাপ সৃষ্টির জন্য আহ্বান জানান। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমেরিকায় নাগরিকত্ব নিয়ে আশ্রয় নেওয়া বঙ্গবন্ধুর খুনীকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রবাসীদের মার্কিন সরকারকে চাপ দেওয়ারও আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের মানবাধিকার গ্রুপগুলো খোঁজ-খবর নিচ্ছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা কোন অবস্থায়, কোন জায়গায় আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে মূল সমস্যা হচ্ছে তাদের স্বদেশে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন। এ কাজে মিয়ানমার সরকারকে বাধ্য করার জন্য আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে যে চাপ দেওয়া দরকার তা দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে প্রবাসীদের সোচ্চার হওয়ার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। 

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়া, সৌদি আরবের প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। শিগগির যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদেরও এমন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের অর্থ পাচার করে কারা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে, এ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো তথ্য নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবাসীরা এ নিয়ে তথ্য দিলে বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।   

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন-আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ ক্লাব ইউএসএ'র সভাপতি নুরুল আমিন বাবু, বাবরুল হোসেন বাবুল, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, সৌদ চৌধুরী, আনোয়ার কবীর। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, আবু বকর হানিফ, মাহফুজ হায়দার, শিবলী সাদিক প্রমুখ।