কুয়েতে প্রতি বছর মার্চের শেষের দিকে গরমের আবির্ভাব অনুভব হলেও জুন মাসে তাপামত্রা থাকে ৪৫ ডিগ্রি থেকে ৫০ ডিগ্রি।কখনো আরও বেড়ে যায় তাপমাত্রা। সঙ্গে আছে অসহনীয় আর্দ্রতা,  কখনো ধূলিঝড়ও।প্রবল ধূলিঝড়ের গতি বেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।

এমন দুর্যোগপুর্ণ আবহাওয়ায় কাজ করতে হয় প্রবাসীদের। কৃষি খামার, নির্মাণ শ্রমিক,  পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ যারা বাইরে কাজ করেন তাদের কষ্টের শেষ নেই বললেই চলে।

প্রতিকুল আবহাওয়ায় সবচেয়ে কষ্টে দিন কাটান কৃষি অঞ্চল বলে খ্যাত কুয়েতে দুটি এলাকা ওয়াফরা এবং আব্দালীর প্রবাসীরা।

অফরা অঞ্চলে কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত পরশো মাহমুদ নামে এক প্রবাসী সমকালকে বলেন, গরমে কাজ করতে করতে তারা অভ্যস্ত হয়ে গেছেন কিন্তু ধূলিঝড়ের সময় বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন আবহাওয়াই হোক তাদের কাজ থামিয়ে রাখা যায় না। তাতে তাদের বরগা (কুয়েত নাগকিদের কাছ থেকে লিজ) নেওয়া  কৃষি ব্যবসা অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তাদের কাজ বন্ধ রাখতে পারেন না।

আরেক প্রবাসী সাত্তার গাড়ি পরিষ্কারের কাজ করেন। প্রতিদিন ভোরে উঠে একবার পরিষ্কার করলেই হতো কিন্তু ধূলিঝড়ের কারণে কয়েকবার পরিষ্কার করতে হয় গাড়ি।

এ বছর ১০ জুন থেকে  কুয়েতে শুরু হয়েছিলো প্রচণ্ড ধূলিঝড় যা ১৮ জুন পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। একনাগারে অনেক সময় ধরে এমন ধূলিঝড় দীর্ঘদিন পরে ঝড়লো । আগের ধূলিঝড়ের স্থায়িত্ব ছিল এক দুই দিনের মতো।

দেশটির সরকার শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে প্রতি বছরের মতো এবারও জুন থেকে আগষ্ট সকাল ১১ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত প্রচন্ড তাপদাহে বাইরে খোলা আকাশের নিচে কাজের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই আদেশে প্রচণ্ড তাপমাত্রায় কাজ করা শ্রমিকরা কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে পরিত্রাণ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।



বিষয় : কুয়েত প্রবাসী প্রবাস

মন্তব্য করুন