দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির লাগাম টানতে সরকারিভাবে দেশব্যাপী ঈদের পর থেকেই চলছে কঠোর লকডাউন। তারপরও মানুষ বাইরে বের হচ্ছে। প্রশ্ন করলে অনেকে বলছেন, জীবিকার তাগিদেই কর্মস্থলে ছুটছেন তারা। করোনার ভয়ে তো আর না খেয়ে মরতে পারেন না। ফলে বুধবারও নৌপথগুলোতে যাত্রীর চাপ দেখা গেছে।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে-

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী): দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের উভয় প্রান্ত দিয়ে ফেরিতে নদী পার হচ্ছে নিম্নবিত্ত, কর্মজীবী মানুষ; রয়েছে ব্যক্তিগত যানও। সরেজমিনে গতকাল দৌলতদিয়া ঘাটে দেখা যায়, দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ নদী পার হচ্ছেন। এরপর হেঁটে কিংবা ছোট ছোট গাড়িতে তারা কর্মস্থলে ছুটছেন। অনেকে বলেন, এভাবে লকডাউন চলতে থাকলে তো তারা এমনিতেই না খেয়ে মরবেন। কাজকর্ম করার সুযোগ দিতে হবে। মাগুরা থেকে আসা ঢাকাগামী আমিনুল হক বলেন, লকডাউন জীবনটা বিষাক্ত করে দিয়েছে। কাজকর্ম বাদ দিয়ে বাড়ি বসে থাকলে সংসার চলবে কীভাবে। দিনে দিনে ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই ঢাকা যাচ্ছি।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ): পাটুরিয়া ও আরিচায় কর্মস্থল ঢাকায় ফেরা যাত্রীর চাপ অব্যাহত আছে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সাদ্দাম হোসেন জানান, তিনি ঢাকার একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। ছোট ছোট গাড়িতে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ঢাকা যেতে হচ্ছে।

শিবচর (মাদারীপুর): বুধবার ভোর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে প্রতিটি ফেরিতেই রাজধানীমুখী যাত্রীর উপচে পড়া ভিড় ছিল। ছোট ছোট গাড়িতে তারা পদ্মা পাড়ে আসেন। এরপর ফেরিতে গাদাগাদি করে শিমুলিয়ায় পৌঁছান। বেশিরভাগ যাত্রীর মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার যাত্রী তাহমিনা আক্তার বলেন, 'অসুস্থ বাবাকে নিয়ে বেলা ১১টায় বাংলাবাজার ঘাটে এসেছি। যাত্রীর চাপে ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফেরি পেয়েছি।' বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ব্যবসায়ী আবু বক্কর মোল্লা বলেন, ঝুঁকি জেনেও পরিবার নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি।

লক্ষ্মীপুর: বুধবার সকালে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হয়। ঘাট থেকে হেঁটেই মানুষ গন্তব্যে রওনা হন। অনেকে আবার ভাড়া করেন ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ ছোট ছোট পরিবহন। বুধবার সকাল থেকে হাজার হাজার যাত্রী ও বিভিন্ন পরিবহন দেখা গেছে। যাত্রীরা জানান, জরুরি প্রয়োজনে ও চাকরি বাঁচাতে কর্মস্থলে যাচ্ছেন তারা। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জানান, সবাইকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

দৌলতদিয়ায় ফেরির সাইলেন্সারে আগুন: গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাটে খানজাহান আলী নামের রো রো ফেরির সাইলেন্সারে গতকাল সকালে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পন্টুনের আপ পকেট থেকে ফেরি লোড হয়ে ছেড়ে যাওয়ার সময় প্রচণ্ড বাতাসে সামনের দিকে যেতে পারছিল না। এ সময় ইঞ্জিনের শক্তি বাড়িয়ে দিলে হঠাৎ সাইলেন্সার দিয়ে ভয়ংকর রূপে আগুন বের হতে থাকে। গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নেভান। কোনো যাত্রী ও যানবাহনের ক্ষতি হয়নি।

গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মাহফুজুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, সাইলেন্সার পাইপে জমে থাকা কার্বন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল।