মানসিক প্রতিবন্ধী লিপি আক্তারকে (২৬) সুস্থ করতে কবিরাজের শরণাপন্ন হয় পরিবার। সুস্থ হওয়ার জন্য লিপিকে দিনে দু’বার পানিতে ১০১টি ডুব দেওয়ার পরামর্শ দেন কবিরাজ। এ পরামর্শে কয়েক দিন ধরে লিপিকে সকাল ও বিকেলে পালা করে পুকুরের পানিতে ১০১ বার চুবাচ্ছিল তার সৎবাবা আজহার মিয়া ও ভাই আল আমিন।

কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিকেলে লিপির অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে পুকুরে নিয়ে চুবানো হয়। একপর্যায়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান লিপি। এ সময় পালিয়ে যান সৎবাবা ও ভাই। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের আলীরটেক ইউনিয়নের কুঁড়েরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ লিপির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ দেড়শ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় লিপির মামাতো ভাই তাওলাদ হোসেন সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান বলেন, কয়েক দিন ধরে সকাল ও বিকেলে লিপিকে ১০১ বার চুবানোর ফলে বৃহস্পতিবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যে কারণে ওই দিন বিকেলে তিনি পুকুরে নামতে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু এরপরও সৎবাবা ও ভাই জোর করে লিপিকে পুকুরে নিয়ে চুবানোর কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে অভিযান চালিয়ে সৎবাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডুব দিতে বলা কবিরাজকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।