বরিশালে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর জন্য জেলা সদর (জেনারেল) হাসপাতালকে সাময়িকভাবে সম্পূর্ণরূপে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে হাসপাতালটিতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া আপাতত স্থগিত থাকবে।

বুধবার এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জেলা সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়। এর আগে গত ১১ জুলাই হাসপাতালটিতে ২২ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয়, কভিড-১৯ রোগীদের উপযুক্ত চিকিৎসার স্বার্থে জেলা সদর হাসপাতালটিকে সম্পূর্ণরূপে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে রূপান্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হলো। তবে এ সেবা কার্যক্রম সাময়িক সময়ের জন্য চালু থাকবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বুধবার রাতে জানান, বরিশাল বিভাগে  করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠির আলোকে বর্তমানে হাসপাতালটির অন্যান্য সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে শুধু করোনা রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। সদর হাসপাতালে ১০০ শয্যা চালু করে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

বরিশাল জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় বড়াল জানান, সদর হাসপাতালে আর রোগী ভর্তি করা হবে না। তবে আউট ডোর সেবা চালু থাকবে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলা সদর হাসপাতালের আন্তঃবিভাগের সব রোগীর চিকিৎসা এখন থেকে শেবাচিম হাসপাতালে দেওয়া হবে।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগের করোনা রোগীদের সব চাপ পড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় করোনা হাসপাতাল শেবাচিম হাসপাতালে। সেখানে ৩০০ শয্যার করোনা ইউনিটে প্রতিদিন গড়ে ৩২৫ থেকে ৩৪০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না; মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে নগরীর কালিবাড়ি সড়কের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নারী করোনা রোগীদের জন্য ২০ শয্যার সংরক্ষিত ইউনিট চালু করা হচ্ছে। এছাড়া নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালকেও করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।