প্রায় এক মাস পর স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে ফিরেছে বরিশাল জেলা সদর হাসপাতাল। 

বুধবার থেকে সাধারণ রোগী ভর্তি শুরু হয়েছে জানিয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল সমকালকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী গতকাল থেকে আন্তঃবিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু করেছি। ২২ শয্যার করোনা ইউনিটও চালু থাকবে।

বরিশাল বিভাগে করোনা সংক্রমণের হার ভয়াবহ ঊর্ধ্বমুখী হলে শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের ৩০০ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে রোগী সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এ অবস্থায় গত ১১ জুলাই থেকে জেলা সদর হাসপাতালে চালু করা হয় ২২ শয্যার করোনা ইউনিটি। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গত ৪ আগস্ট জেলা সদর হাসপাতালকে সাময়িকভাবে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করার অনুমোদন দেয়। পরদিন জেলা সদর হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে রোগী ভর্তি করে দেওয়া হয়।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস পর গত সোম ও মঙ্গলবার বরিশাল বিভাগে করোনা পজিটিভ একজন রোগীও মারা যাননি। ২০ আগস্ট থেকে ১০ দিন ধরে এ বিভাগে করোনা শনাক্তের হার ২০ শতাংশের নিচে। গত ২৬ আগস্ট সবচেয়ে কম শনাক্ত হয় বিভাগে। ওইদিন শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, লকডাউন তুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়নি। বরং যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।

আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, বুধবার জেলা সদর হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা হলে দুপুর পর্যন্ত চারজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ৫ আগস্ট থেকে করোনা ডেডিকেটেড করা হলেও বহির্বিভাগে সেবা চালু ছিল। বুধবার করোনা ইউনিটে তিন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস বলেন, যেহেতু কভিড রোগী কমে আসছে, সে কারণে নন-কভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন নন-কভিড রোগীর সংখ্যা বেশি। সদর হাসপাতালে আন্তঃবিভাগের চিকিৎসা শুরু না করলে এ রোগীরা সংকটে পড়তেন।

এদিকে জেলা সদর হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বরিশাল সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু। তিনি বলেন, নগরী ও আশপাশে লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসাস্থল জেলা সদর হাসপাতাল। দরিদ্র শ্রেণির মানুষ এ হাসপাতালে সেবা নেন বেশি। প্রায় এক মাস স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় মানুষ দুর্ভোগে পড়েছিলেন।