নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়র্ডের কালির চর গ্রামের ইব্রাহীম মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জানা যায়, নৌকার প্রার্থী ও বিদ্রোহী (আনারস প্রতীক) প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

আহতরা হলেন-আনারস প্রতীক প্রার্থীর আব্দুর রহমান (২৪),জহির উদ্দিন বাবর (৪০)আনোয়ার হোসেন(২৩)শাহাব উদ্দিন(৩০),জাফর ইকবাল সজিব(৩৫)ও আমির হামজা(৪০) এবং নৌকার প্রার্থীর মোঃ ইব্রাহিম(৩২)সাইফুল(৩৫),রুবেল (২৭)ও মহিউদ্দিন(৩৫)। আহতদের মধ্যে আব্দুর রহমান, বাবর ও ইব্রাহীমের অবস্থা আশঙ্কাজনক।তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ২০ সেপ্টেম্বর হাতিয়া উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় অধিপত্য বিস্তার নিয়ে নৌকার প্রার্থী ও আনারসস প্রার্থীর লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। উভয়পক্ষের লোকজন দেশিয় অস্ত্র ব্যবহার করে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে আটক করতে পারেনি।

বিদ্রোহী প্রার্থী ফখরুল ইসলাম জানান, শনিবার তার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন। প্রচারণা চালানোর সময় হঠাৎ নৌকার প্রার্থী জিয়া আলী সোবারক কল্লোলের নেতৃত্বে শতাধিক লোক নিয়ে আমার লোকজনের ওপর হামলা করে। 

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী মাঠ আমার পক্ষে। সুষ্ঠু ভোট হলে ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে আমি বিজয়ী হব। আমার নির্বাচনী মাঠের অবস্থা ভাল দেখে নৌকার প্রার্থীর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই নির্বাচনকে বানচাল করতেই পরিকল্পিতভাবে আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। 

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকার প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল বলেন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে আমার তিনজন কর্মী মোটরসাইকেলে করে ইসলামিয়া বাজার থেকে সাগরিয়া বাজার আসার পথে আনারস প্রতীক প্রার্থীর লোকজন তাদের আটক করে মারধর করেছে। খবর পেয়ে তিনি ও তার লোকজন ঘটনাস্থল গেলে আনারস প্রতীক প্রার্থীর লোকজন হামলা করে। 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখনও থানায় কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।