বইমেলা মানেই লেখক-পাঠক-প্রকাশকের মলাটবন্দি আবেগকে পরস্পরের কাছে নিয়ে আসা। বইমেলা মানেই ভাষা ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং সাহিত্যের অপার ভাণ্ডারের সমাহার প্রকাশে নিবেদিত আয়োজন। সেই লক্ষ্য নিয়েই শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী লন্ডন বাংলা বইমেলা।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এ বছরের বইমেলায় ভার্চুয়ালি অংশ নেবে। ২০১০ সালে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ এ বছর পা রেখেছে এক যুগে। তবে বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে গতবছরের মতো এবারও অনলাইনে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছেন আয়োজকরা।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ মেলা চলবে রোববার পর্যন্ত।

বাংলাদেশ থেকে এতে অংশ নিচ্ছে ১১টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ঐতিহ্য, ভাষাচিত্র, ধ্রুবপদ, বাঙলায়ন, মূর্ধন্য, মুক্তদেশ, প্রিয়মুখ, বইপত্র প্রকাশন, পরিবার পাবলিকেশন্স, পেন্সিল পাবলিকেশন্স ও প্রতিভা প্রকাশ। বইমেলায় কলকাতা থেকে অংশ নেবে অভিযান পাবলিশার্সসহ আরও কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

বইমেলার উদ্বোধন করবেন মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কবি কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. গওহর রিজভী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাঈদা মুনা তাসনিম এবং বইমেলার সমন্বয়ক সালেহা চৌধুরী। 

দুই দিনব্যাপী বইমেলায় নির্বাচিত সাহিত্য ও সাহিত্যের সংকট উত্তরণ নিয়ে কথা বলবেন সম্মানিত আলোচকবৃন্দ। সাহিত্য আলোচনার পাশাপাশি থাকবে কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশুতোষ আয়োজন।

সাহিত্যের পাশাপাশি চার দেশের শিল্প-সংস্কৃতির মেলবন্ধন গড়ে উঠবে লন্ডন বাংলা বইমেলায়- এমনটাই ধারণা করছেন সুধীজন। উৎসবের সহযোগী সংগঠন হিসেবে আছে যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।