ব্রিটিশ বাংলাদেশি শীর্ষ স্থানীয় কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব চ্যানেল এস চেয়রাম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা পেয়েছেন।

মঙ্গলবার লন্ডনের গিল্ডহলে এক অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে ক্লার্ক টু দি চ্যাম্বারলেইন মুরে ক্রেইগ ‘ডিক্লেরেশন অব দি ফ্রিম্যান’ পাঠ করান ও পরে সম্মননা তুলে দেন আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীকে। এতে পরিবার, বিশিষ্টজন ও বিভিন্ন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন সিটি অব লন্ডনের কাউন্সিলম্যান মনসুর আলী ও ক্যানারিওয়ার্ফের ডিরেক্টর জাকির খান।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার হান্ডেডসহ নানা সম্মাননা প্রাপ্ত আহমেদ উস সামাদ ছাত্রজীবনে ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটিতে প্রথম এশিয়ান ছাত্র সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ৯১ সালে সততা, নিষ্ঠা, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার নিরিখে আহমেদ চৌধুরী বৃটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্য থেকে 'জাস্টিস অফ পিস' (জেপি) হিসেবে নিযুক্ত হন এবং বাথ বেঞ্চের একজন মেজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বৃস্টল, বাথ ও লন্ডন এবং সিলেট তথা বাংলাদেশি নানা কমিউনিটি ও চ্যারিটি সংগঠনে সক্রিয় এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে যুক্ত। ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নিউ ডিল প্রোগ্রামের উপদেষ্টা। 

‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা লাভ করে আহমেদ উস সামাদ বলেন, আমি নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছি। কোনোদিন কোনো পজিশন চাইনি। আমার এই সম্মাননা কমিউনিটির মানুষকে কল্যাণমূলক কাজে উৎসাহিত  করবে-এটাই আমার অ্যাচিভমেন্ট। আমি অত্যন্ত মর্মাহত যে, আমার ভাই মরহুম মাহমুদ উস সামাদ আমার পাশে নেই। তিনি থাকলে আজ খুব খুশি হতেন।

উল্লেখ্য, কিছু কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ছাড়াও এ সম্মানা পেয়েছেন ব্রিটেনের রাজ পরিবারের ১১ সদস্য। এদের মধ্যে রয়েছে রানী এলিজাবেথ ও তার মা, প্রিন্স জর্জ-ডিউক অব ক্যামব্রিজ, প্রিন্সেস ডায়না, প্রিন্স চার্লস। এছাড়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইন্সটন চার্চিল, মার্গারেট থেচার, নেলসন মেন্ডেলা, জাতিসংঘের প্রাক্তন মহসচিব কফি আনানও পেয়েছেন এ পুরস্কার।

আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী পুরস্কৃত হওয়ার পর তার সম্মানে সিটি অব লন্ডন গিলহলে ও পরে হোয়াইট্যাপলের ফিস্ট রেস্টুরেন্টে দুটি সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিউনিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুৃলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় তাকে।

আহমেদ উস সামাদ চৌধুরীর জন্ম সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার নূরপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৫৬ সালের ১লা জানুয়ারি।  

১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি চলে আসেন যুক্তরাজ্যে। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী বাথ শহরের সিটি অফ বাথ কলেজ থেকে ও-লেভেল পাস করার পর ব্যবসা প্রশাসন বিষয়ে প্রথম ভর্তি হন সাউথ বৃস্টল কলেজে এবং পরে এ বিষয়ে উচ্চ ডিগ্রি শেষ করেন সিটি অফ বাথ কলেজে। উভয় কলেজে তিনি স্টুডেন্ট ইউনিয়নে সহ-সভাপতি ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

১৯৯১ সাল থেকে 'কমনওয়েলথ জাজেস অ্যাণ্ড ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাসোসিয়েশন' এর আজীবন সদস্য আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই 'ব্রিটেন-বাংলাদেশ মৈত্রী সমিতি'র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন তিনি দীর্ঘদিন।

১৯৯১ সালে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্য থেকে 'জাস্টিস অফ পিস' (জেপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়ে বাথ বেঞ্চের একজন মেজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। 

১৯৭৫ সালে আহমেদ উস সামাদ ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটিতে প্রথম এশিয়ান ছাত্র সংসদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি ব্রিস্টলে বাঙালি কমিউনিটির জন্য প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ হাউস এবং ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ সেন্টার। তিনিই প্রথম লন্ডনে ব্রডশিট মাল্টিকালার পত্রিকা  প্রকাশ করেন।

সম্প্রতি ডিকশনারি অফ ইন্টারন্যাশনাল বায়োগ্রাফির ৩৭তম সংস্করণে পৃথিবীর ৬ হাজার শীর্ষ কৃতি মানুষের তালিকায় স্থান হয়েছে বাংলাদেশের এ কৃতি সন্তানের।