বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি নাগরিক সমাজ।

যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি নাগরিক সমাজের পক্ষে গণমাধ্যমে ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদ ও বিশ্বজিত সাহার পাঠানো এই বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আবারো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়। ইসলাম ধর্মের অবমাননার অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে সারা দেশে দুর্গা পূজার প্রতিমা ও মণ্ডপ ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। হতাহত হয়েছে অনেকে।'

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রবাসী নাগরিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে। দুর্গাপূজা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক ধর্মীয় উৎসব। প্রতিটি হিন্দু পরিবার এই উৎসবের অপেক্ষায় সারা বছর পথ চেয়ে বসে থাকে।‘

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শুধু পুজা উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য অসংখ্য প্রবাসী হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে বেড়াতে যান। এবারেও তারা গেছেন, কিন্তু উৎসবের বদলে তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে কুৎসিত সাম্প্রদায়িক হামলার। এই ঘটনা গভীর গ্লানির। আমরা এর নিন্দা জানাই।’ 

এতে বলা হয়, ‘সরকারিভাবে বলা হয়েছে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি রয়েছে। কিন্তু এটি যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় তার প্রমাণ প্রায় অর্ধ শতক প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ও অসংখ্য পূজামণ্ডপে হামলা। বাংলাদেশে এর আগেও আমরা দেখেছি দাঙ্গার পরপর সরকার এই রকম কঠোর ভাষায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, কিন্তু প্রকৃত অপরাধী কখনোই খুঁজে বের করা হয় না। কেউ যথাযথ শাস্তিও পায়না। আমাদের দাবি, এই নাটকের অবসান হোক, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল অপরাধীর যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দাঙ্গা রোধের ব্যর্থতা কেবল সরকারের নয়, নাগরিক সমাজের। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম, কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধ শতক পরেও প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক চেতনা নির্মাণে আমরা সক্ষম হয়নি। এই ব্যর্থতা নাগরিক ও সুশীল সমাজকে বহন করতেই হবে। প্রতিটি সংখ্যালঘু শুধু এই দেশের সমান অধিকারভোগী নাগরিকই নয়, তারা আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করণে যে অক্ষমতা, তার দায়ভার এই নাগরিক ও সুশীল সমাজকেও নিতে হবে। তাদের দ্বিগুণ প্রত্যয় নিয়ে সকল রকম সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমরা তাদের আশ্বাস দিতে চাই, এমন লড়াইতে আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।’

এতে আরও বলা হয়, ‘প্রবাসী বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশের সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে দাঙ্গার সকল ঘটনা তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি অথবা গ্রুপকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক। একইভাবে ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটতে পারে সেজন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে একটি সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হোক। এই কমিশনের দায়িত্ব হবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও অন্যান্য সকল নাগরিক সমানাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুপারিশ চুড়ান্ত করা।’ 

বিবৃতিতে আরও সই করেছেন, ড. হায়দার আলী খান, ড. আবদুন নূর, জাফর বিল্লাহ, ড. সৈয়দ আশরাফ আহমদ, আব্দুল্লাহ জাহিদ, ফাহিম রেজা নূর, গোলাম সারোয়ার হারুন, বদিউজ্জামান আলমগীর, ড. খালেকুজ্জামান মতিন, ড. রিয়াজ, জেবিন চৌধুরী, ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, ড. ফাতেমা আহমদ, ড. আবুল কালাম আযাদ, সামিরা সায়ীদ, ড. নূরুন নবী, ড. জিনাত নবী, ড. শহীদুল্লাহ, শাহিদা আফরোজ,  ড. মোয়াজ্জেম ও ড. রুবি হোসেন, কৌশিক আহমেদ, আহমাদ মাযহার, হাসান ফেরদৌস, রানু ফেরদৌস, ড. নজরুল ইসলাম, নিনি ওয়াহেদ, জামাল উদিন হোসেন, সেমন্তী ওয়াহেদ, ফকির ইলিয়াস, ফারহানা ইলিয়াস তুলি, শামস আল মোমিন,  ড. মালেকা আহমেদ, মীর হাকিম,  ড. চৌধুরী হাফিজ আহসান, ড. সেলিনা পারভীন, সালাউদ্দিন, রাজিয়া আহমেদ, গুলশান আরা কাজী, কাজী বেলাল,  ড. এসমেত হাকিম, ড. আশিক আনসার, ড. নুরুন্নেসা বেগম, ড. জিয়াউর রহমান, ড. মাসুদুল হাসান, ইশরাত জাহান, ড. মোহাম্মদ,  ড. সাবিনা শারমিন, শাহানা বেগম, মিনহাজ আহমেদ, শামীম আহমেদ, কবীর কিরণ, রাশা আহমেদ, ড. ইবরুল চৌধুরী, ফারহানা আফরোজ, ড. আবুল কালাম আযাদ, ড. মোহাম্মদ আলম।