বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলের বলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঠক, প্রকাশক ও লেখকদের মেলা বসেছিল। 

স্বাধীনতার ৫০ বছরে এবারের বইমেলায় থাকছে ভিন্নতা। ভিডিওবার্তার মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করেন কবি আসাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহিদুল ইসলাম, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুর, বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থার নির্বাহী মনিরুল হক প্রমুখ। 

মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ৩০তম এই আয়োজনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবারের মেলার আহ্বায়ক ড. নুরুন নবী। এরপর ৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা জানানো হয়। তারা আলোর প্রদীপ হাতে নিয়ে মেলার উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেন। 

উদ্বোধনী পর্বে ছিল 'গৌরবের পঞ্চাশ বছর' শীর্ষক সেমিনার। পরে সঙ্গীত পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, কাদেরী কিবরিয়া ও শহীদ হাসান। ঢাকা থেকে এসে মেলায় গান গেয়েছেন নবনীতা চৌধুরী। 

এবারের মেলায় মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারকে। মেলার ৩০ বছরে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় মুক্তধারার প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহা, সাংবাদিক নিনি ওয়াহেদ এবং উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলীকে। 

এবারের মেলায় রয়েছে নানা ধরনের আয়োজন। বাকিদিনগুলো মেলা বসবে জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে। সোমবার পর্যন্ত বিকেল ৪টা থেকে মেলা শুরু হয়ে শেষ হবে রাত ১০টায়।  

মাঝে একটি বছর করোনা মহামারির কারণে সরাসরি হতে পারেনি বইমেলা। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলার ৩০তম আসর হচ্ছে পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের অংশগ্রহণে। এবারের মেলায় অংশ নিয়েছেন ঢাকার বেশ কয়েকটি প্রকাশনা সংস্থা। বই প্রদর্শন ও বিক্রি ছাড়াও মেলায় থাকছে সাহিত্য আড্ডা, কবিতা পাঠ, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।