কয়লাভিত্তিক জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০২১ সালের পর কয়লা নির্ভর নতুন কোনো বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন না করার ঘোষণা প্রদানের দাবির সাথে একাত্মতা জানিয়েছে সচেতন নাগরিক কমিটি সনাক, ফরিদপুর।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি’র অনুপ্রেরণায় গঠিত সনাক, ফরিদপুর আয়োজিত জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন-কপ ২৬ উপলক্ষে রোববার বেলা ১১টার দিকে শহরের প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ওই দাবির সাথে একাত্মতা জানানো হয়। পাশাপাশি মানববন্ধনে গ্লোবাল ক্লাইমেট ফান্ড জিসিএফসহ জলবায়ু তহবিলে ঋণ কিংবা বীমা নয়, অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে অধিক কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত রাষ্ট্রগুলোকে অনুদান হিসাবে ক্ষতিপুরণের টাকা প্রদানের জোর দাবি জানায় অংশগ্রহণকারীরা।  আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন-কপ ২৬ উপলক্ষে এ সংক্রান্ত ১৪টি দাবি জানিয়ে অবস্থানপত্র বিতরণ ও উপস্থাপন করা হয় সেখানে। সারাদেশের ৪৫টি সনাক অঞ্চলের সাথে একই দাবিতে একই সময়ে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়।

টিআইবির অবস্থানপত্রে যে ১৪ দফা সুপারিশ করা হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ কর্র্তৃক কপ-২৬ সম্মেলনে উত্থাপনযোগ্য দাবিগুলো হলো- জলবায়ু বিষয়ক নীতি নির্ধারণে জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে; ২০৫০ সালের মধ্যে ‘নেট জিরো’লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আইএনডিসিসহ প্রশমন বিষয়ক সকল কার্যক্রমে উন্নত দেশগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; ২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে শতভাগ জ্বালানি উৎপাদনে উন্নত দেশগুলোকে পর্যাপ্ত জলবায়ু তহবিল ও প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানে সিভিএফ এর পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে দাবি উত্থাপন করতে হবে; দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় একটি ক্ষয়-ক্ষতি (Loss and Damage) বিষয়ক আলাদা তহবিল গঠন করতে হবে।

এছাড়া বাংলাদেশের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধিতে এখাতের জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করে প্রশমন বিষয়ক কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে হবে; বিশেষ করে, এখাতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি সহায়ক নীতিমালা প্রণয়ন ও অবিলম্বে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

ঘন্টাব্যাপী আয়োজিত এ মাবনবন্ধনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন সনাক ফরিদপুরের সভাপতি এডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী। মানববন্ধনে সাংবাদিক, আইনজীবি, শিক্ষক, এনজিও কর্মী, ছাত্র-ছাত্রী, সনাক, স্বজন, ইয়েস ও ইয়েস ফ্রেন্ডস সদস্যসহ টিআইবি’র কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।