সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক্সপো ২০২০-এ বিনিয়োগ আকর্ষণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) আয়োজনে শনিবার এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল- ইনভেস্ট ইন ইকোনমিক জোন অব বাংলাদেশ, অপরচুনিটি বিয়ন্ড বাউন্ডারিয়াস।

দেশটির বাংলাদেশ মিশন ও দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সার্বিক সহযোগিতায় এক্সপো-২০২০ এর বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে সেমিনারটি আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেজার নির্বাহী সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব আব্দুল আজিম চৌধুরী। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মিশনের রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর। অন্যান্যের মাঝে দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব আব্দুল আজিম চৌধুরী বলেন, ভূমি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বেজা বাংলাদেশে শিল্পায়নের গতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে। সরকারি সব সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতায় বেজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের জন্য সুমিতোমো কর্পোরেশনের সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চার চুক্তিসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে ভূমিকাকে তিনি বেজার জন্য মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাথে তাল মিলিয়ে পরিকল্পিত এবং ডাইনামিক অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে অর্থনীতির মূল ধারায় সম্পৃক্তকরণে বেজা ভূমিকা রেখে চলেছে। দুবাই থেকে বেজার মাধ্যমে বৈদেশিক বিনিয়োগের একটি ধারা অচিরেই স্থাপন করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত মো. আবু জাফর দুবাই এক্সপোতে বিনিয়োগ আকর্ষণে এ সেমিনার আয়োজনের জন্য বেজাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এ সেমিনারের ফলে দুবাই থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো, যা এগিয়ে নিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সেমিনারে দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিবৃন্দ, ভারত, চীন, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এ সময় প্রবাসী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেজার কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার প্রতি আস্থা প্রকাশ করে সরকারকে দক্ষ শ্রম ব্যবস্থাপনা, দ্রুত সেবা প্রদান, স্বর্ণ বিষয়ক নীতিমালা আধুনিকীকরণেরও আহ্বান জানান।