ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শিক্ষাবিদরা। 

দলীয় রাজনীতির পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতি চালু করে অরাজনৈতিক সার্চ কমিটির মাধ্যমে ঢাবি উপাচার্য নিয়োগের পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

৩৫তম ফোবানা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনায় এসব পরামর্শ দেন বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ফোরাম ইনকের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অনুজীব বিজ্ঞানী ড. মিজানুর রহমান, ভার্জিনিয়ার জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আমিনুর রহমান এবং ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ফারজানা মাসাব্বির। ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের সাংবাদিক আনিস আহমেদ এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন। 

ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার মানোন্নয়নে এবং বর্তমান বিশ্বে অর্থনৈতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে ছাত্রদের তৈরি করতে যাদের সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করার কথা সেই শিক্ষকদের বড় একটা অংশ দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে থাকেন। বিভিন্ন রঙের মোড়কে দলীয় রাজনীতিই হতে থাকে তাদের পরিচয়ের মূল বিষয়। কে কত বড় শিক্ষক বা বিজ্ঞানী সেটা বিষয় নয়, বরং যে যত বড় দলীয় রাজনীতির ধারক সেই তত বেশী মর্যাদা ও ক্ষমতাশালী হিসেবে পরিচিত হতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক দলীয় রাজনীতি আমাদের ভুলিয়ে দেয় যে বিশ্ববিদ্যালয় একটি একাডেমিক প্রতিষ্ঠান।’

দলীয় রাজনীতি চর্চার কারণে বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘তলানিতে পড়ে আছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. মিজান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও একবিংশ শতকের চাহিদা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মৌলিক অথবা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। অর্থাৎ ক্ষমতাকেন্দ্রিকতাই শিক্ষক রাজনীতির মূলমন্ত্র। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর শিক্ষার বিষয়টি গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণা এবং একাডেমিকসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তুলনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান মানগত অবস্থান আজ তলানিতে। ’

এই অবস্থার উত্তরণে তার পরামর্শ, বিশ্বায়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ভালো-মন্দ প্রভাব বিবেচনা করে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একবিংশ শতাব্দির চ্যালেঞ্জ মোবাবেলায় কিভাবে এগিয়ে যাবে তার রুপরেখা তৈরি ও বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আমিনুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে ও বিপক্ষে দুদল লোক ছিলেন, এটা ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু অনেকে অজ্ঞানতাবশত অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধী দলেরই একজন মনে করেন। তবে তথ্য প্রমাণ থেকে এটা বোঝা খুব যায় যে, রবীন্দ্রনাথকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধী হিসেবে সাব্যস্ত করার পেছনে, যতটা সত্য আছে, তার চেয়ে বেশি হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। বর্তমান আলোচনা,তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দেখাতে চেষ্টা করবে যে কীভাবে সত্যকে আড়াল করে, বরীন্দ্রনাথকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধী শিবিরের সদস্য বানিয়ে, একদল লোক শুধুই ইতিহাস ও সত্যকেই বিকৃত করেছে ও করছে তা নয়, বরং পূর্ববঙ্গের রাজনীতি ও সামাজিক জীবনে যে সহনশীলতার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, তাকেও কলুষিত করতে অপচেষ্টা করছে।’

ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ড. ফারজানা মাসাব্বির স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌবরগাঁথা ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।