পর্তুগালের লিসবনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার কভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে পর্তুগীজ সরকারের আরোপিত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করা হয়।      

পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান দূতাবাসের কর্মকর্তা -কর্মচারীদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়। পরে দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের অংশগ্রহণে জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষ্যে এক মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান সমাপনী বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক মাইলফলক হিসাবে চিহ্নিত করে বলেন, দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ যে বিজয় অর্জন করেছিল তা এই দিন পূর্ণতা পেয়েছিল। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের মিনওয়ালী কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় শত অত্যাচার নির্যাতনের মুখেও বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোন আপোষ করেননি। 

এ সময় ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু যে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, সে অনুসারে  স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, সমতাভিত্তিক  এবং মানবিক রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে এক যোগে কাজ করার আহ্বান জানান।  

আলোচনা সভাশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের উপর নির্মিত প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সবশেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগ করা সব শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।