প্রবাসে দেশি সঙ্গীত কিংবা সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ নেই বললেই চলে। তবু নানা প্রতিকূলতার ভেতর প্রবাস জীবনের ৪০ বছর কাটিয়ে দিলেন রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ইয়াসমিন ইসলাম। দুবাইয়ের সাংস্কৃতিক জগতে তিনি মেরুনা নামে পরিচিত।

ছোটবেলায় বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে রবীন্দ্র সঙ্গীত চর্চা করেন তিনি। স্বামী আবুল কালাম সামসুদ্দিন পেশায় ডাক্তার। স্বামীর চাকরির সূত্রে ১৯৭৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই চলে আসেন। বিদেশে এলেও রবীন্দ্র সঙ্গীত চর্চা তিনি ধরে রাখেন। দুবাইয়ের মত ঝলমলে শহরে এক সময় হাল ধরেন দেশীয় সংস্কৃতির। গড়ে তোলেন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। বর্তমানে ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফাউন্ডেশন ইউএই শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ইয়াসমিন ইসলাম।

আরব আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ কনস্যুলেটের শিল্পীর তালিকায় প্রথমদিকে তার নাম। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর আয়োজক হিসেবে দেখা যায় তাকে। দেশি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শিল্পী প্রবাসে বেড়ে ওঠা আগামী প্রজন্মের হাতে দেশি সংস্কৃতির মশাল তুলে দেয়ার স্বপ্ন লালন করেন।

ইয়াসমিন ইসলাম বলেন, ‘দেশের বাইরে নিজের সংস্কৃতি চর্চায় আলাদা আনন্দ আছে। দেশে চর্চার সুযোগ থাকলেও প্রবাসে জায়গাটা খুবই সীমিত। ছোটবেলায় গানের সঙ্গে জড়িত থাকায় এখানেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিচরণ ঘটে। ধীরে ধীরে সেই পরিসর বাড়ে। নজরুল-রবীন্দ্র নাথের ওপর জানাশোনা আছে- এমন কয়েকজন নিয়ে নজরুল-রবীন্দ্র জয়ন্তী করছি। এসব আয়োজনে মাঝে মাঝে ভারতের শিল্পীরাও অংশ নেন।’  

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নজরুল-রবীন্দ্র নাথের পরিচয় ঘটাতে একটি একাডেমি করার চিন্তা করছেন ইয়াসমিন ইসলাম। দুই মেয়েকেও গড়ে তুলেছেন সাংস্কৃতিকর্মী হিসেবে। বড় মেয়ে মুনা সামস চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও ছোট মেয়ে ফারহা সামস ক্যামিকেল ইঞ্জিনিয়ার হলেও দু'জনের হাতেই যেন দেশি সংস্কৃতির মশাল। বড় মেয়ে পিয়ানোতে দক্ষ আর অন্যজন নিয়েছেন নাচের ওপর ডিগ্রি।

ইয়াসমিন ইসলাম বলেন, ‘দেশি সঙ্গীত বলতে শুধু নজরুল বা রবীন্দ্র চর্চা নয়। ফোক, ভাটিয়ালির মত অনেক স্তর আছে। সবই চর্চা করার বিষয়। একটি একাডেমি করার বিষয়ে ভাবছি। এটি হয়ে গেলে প্রবাসে দেশি সঙ্গীত ও সংস্কৃতি লালন করা আরও সহজ হবে।’