ইসলামাবাদস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস যথাযথ উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জাকজমকের সাথে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে উদযাপন করেছে। হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারবর্গ এবং শিশু-কিশোররা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দূতালয় প্রাঙ্গণ বর্ণাঢ্য ব্যানার, পোস্টার ও রঙিন বেলুনে সুসজ্জিত করা হয়। 

অনুষ্ঠানের সকালের পর্বে হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর উপস্থিতিতে পাকিস্তানের নিযুক্ত হাইকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী দূতালয় প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সূচনা করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শুরু হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

হাইকমিশনার তার স্বাগত বক্তব্যে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। হাইকমিশনার বলেন, বঙ্গবন্ধু শৈশব থেকেই ছিলেন নির্ভীক, দয়ালু এবং পরোপকারী কিন্তু অধিকার আদায়ে ছিলেন আপোসহীন। জীবনের প্রতিটি ক্ষণে অন্যায়-অবিচার ও শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কখনো শাসকগোষ্ঠীর সাথে আপোস করেননি। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালি জাতিরই নয়, তিনি ছিলেন বিশ্বের সকল নিপীড়িত-শোষিত মানুষের অধিকার ও মুক্তির অগ্রনায়ক ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি অর্জন করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির পুনর্গঠনে তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করে দেশকে শোষণ, বঞ্চনাহীন, ক্ষুধা, দারিদ্র্যহীন ও ন্যায়-নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে এবং দেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু যখন স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠন কাজে আত্মনিয়োগ করেন, তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধীচক্র তাকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ার স্বপ্নকে রুখে দেয়।

হাইকমিশনার আরও বলেন, জাতির পিতার অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ ও  ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মানুষের ভাগ্যেন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৩৯টি হাই-টেক পার্ক, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২, গভীর সমুদ্রবন্দর, পদ্মাসেতু, এলএনজি টার্মিনাল, এক্সপ্রেসওয়ে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আর এভাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার পথে। 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন, শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং ভবিষ্যতে দেশ গড়ার কাজে শিশুরাই নেতৃত্ব দেবে। শিশুরা যেন সৃজনশীল-মুক্তমনের মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। হাইকমিশনার আজকের এই বিশেষ দিনে সকল শিশুদের বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতার সংগ্রামী জীবনের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে এবং জাতির পিতার অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে সকলকে আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। 

বিকালের অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনার সকল শিশু-কিশোরদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে হাইকমিশনার শিশুদের সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটেন।

এ উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’  বিষয়ে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রচনা  ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ২৫ জনের অধিক শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। এ দিবসের অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে জাতির পিতার জীবন ও কর্মের ওপর সংক্ষিপ্ত  আলোচনা। এ আলোচনায়  চারজন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। আলোচনা পর্বের পর শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও  সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সবশেষে জাতির পিতার আত্মার মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সকল শিশু-কিশোর ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি