গণহত্যা দিবসকে এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি এবং সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে যখন এখানে গণহত্যা দিবস পালন করছি তখন রাষ্ট্র কী করছে? এই মূহুর্তে এই দিবসটি কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন হচ্ছে না। সুতরাং আগে আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে হবে।’

১৯৭১ এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে শুক্রবার রাতে শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশ ও আলোর মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণহত্যার কালরাত্রি’ শিরোনামে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচিতে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘দিবসটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের জন্য জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা, প্রতিটি ভবনে কালো পতাকা ‍উত্তোলনের পাশাপাশি কিছু রাষ্ট্রীয় আচার পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে আহবান জানাবো, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা বলার আগে এই গণহত্যা দিবসকে রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় আচারের মাধ্যমে যেন এই দিবসটি আগামী বছর পালন হয় আশা করি সেজন্য আপনারা তদরির চালাবেন। আর বাংলাদেশ সরকারকেই আন্তর্জাতিক উপযুক্ত সংস্থায় আর্জি, তদবির করে এই স্বীকৃতি আদায় করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘একটু আগে ইনু ভাই বলে গেছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন করা হয় না। কিন্তু একটু পর রাত নয়টায় বাতি নিভিয়ে কালরাত্রিকে যে স্মরণ করা হবে সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবেই পালন করা হচ্ছে। অবশ্য আরও কী কী করে এই দিনটিকে আরও ভালোভাবে পালন করা যায় সেটা নিয়ে আলাপ আলোচনা হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমি যখন সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলাম তখন থেকে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। সে কাজগুলো চলমান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীর বিচার করেছে, করছে। এই সরকারের সময়ই এই দিনটি গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কাজেই আমি বিশ্বাস করি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আমরা একদিন গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও আদায় করতে পারবো।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘একাত্তরের চেতনায় দেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য আমাদের দরকার বঙ্গবন্ধু কন্যার সরকার। আমরা সবাই যেন তার সাথে থাকি। যারা রাজনীতির নামে এ দেশে এখনো অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে সেই অপশক্তি এখনও বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আসুন সবাই মিলে সেই অপশক্তিকে রুখে দাঁড়ায়।’

এসময় অন্যদের মাঝে আরও বক্তব্য রাখেন, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড. শাহাদাত হোসেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এমপি, মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হাসান মানিক, কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড শাহ আলম, মাহবুব উদ্দীন আহমেদ বীর বিক্রম, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ।

আলোচনা শেষে সবাই দাঁড়িয়ে সমবেত গান পরিবেশন করেন। এরপর শহীদ মিনারেই কিছুক্ষণের জন্য মশাল জ্বালানো হয়। মশাল নিভিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর মিছিল শুরু হয়। মোমবাতি হাতে মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে জগন্নাথ হলে পৌঁছে হলের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে মোমবাতিগুলো বসানো হয়।