ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে ‘৫১৬ আরোকা’

পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে ‘৫১৬ আরোকা’

৫১৬ আরোকা সেতুর একটি চিত্র

শাহ মোহাম্মদ তানভীর আহমদ, পর্তুগাল থেকে

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২২ | ২২:৪৩ | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২২ | ২২:৪৩

পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ পর্তুগালের চোখ জুড়ানো পাথরবেষ্টিত পর্বত আর হলুদ ফুলে ছেয়ে যাওয়া সবুজ অরণ্য এবং ‘৫১৬ আরোকা’ সেতু। হেঁটে চলাচলের জন্য বিশ্বের এই দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু পর্তুগালের আরোকা শহরে অবস্থিত। ভ্রমণপিপাসু হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন ঘুরতে আসেন বিশ্বের দীর্ঘতম এই পথচারী সেতুতে। দুইপাশে পাহাড় আর মাঝে গভীর খাদের উপর নির্মিত এই সেতু পর্যটকদের রোমাঞ্চিত করে। 

দেশটির উত্তরাঞ্চলের ইউনেস্কো স্বীকৃত প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত বনভূমি আরোকা জিওপার্ক উপত্যকায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫১৬ মিটার। দ্রুত গতিসম্পন্ন জলস্রোতের নদী পাইভা থেকে ১৭৫ মিটার উপরে ঝুলছে এটি। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রায় দুই বছর সময় নিয়ে তৈরি করা হয় বিশ্বের চমকপ্রদ এই সেতুটি।

সেতুটির ধাতব জালির মধ্য দিয়ে নিচে বয়ে যাওয়া নদী ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য মুগ্ধ করে পর্যটকদের। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার পর্যটক আসেন সেতুটি দেখার জন্য। সেতুর দুই পাশে উঁচু করে রেলিং দেওয়া আছে। আবার উপরেও তার দিয়ে ঘেরাও করা। এই সেতু দিয়ে হাঁটার সময় বাইরে পড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই।

এমনকি যাদের উঁচুতে ভয় আছে; তারাও সেতুর রেলিং ধরে ধীর পায়ে হেঁটে পার হয়ে যেতে পারবেন নির্দ্বিধায়। পর্যটকরা সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশও উপভোগ করতে পারবেন।

পথচারী এই সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫১৬ মিটার

সেতুটিতে হেঁটে যাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি মনির হোসেন কথা বলেন সমকালের সঙ্গে। তিনি সবাইকে দারুণ এই অভিজ্ঞতা উপভোগের পরামর্শ দিলেও, সেতুতে চলার সময় ভয়ে নিচে তাকাতে পারেননি বলে জানান।  

আরোকার মেয়র মার্গারিডা বেলেম সমকালকে বলেন, এই অঞ্চলের ‘মূল আকর্ষণ’ সৃষ্টি করেছে এই সেতু।

এর আগে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতুর খেতাব ছিল সুইজারল্যান্ডের চার্লস কুনেন সেতুর দখলে। ২০১৭ সালে নির্মিত ৪৯৪ মিটার দীর্ঘ ওই সেতুর সেই রেকর্ড ভেঙে দিল পর্তুগালের ‘৫১৬ আরোকা’।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বের দীর্ঘতম পথচারী এই সেতুর নতুন কাঠামোটি এই অঞ্চলে আরও বেশি পর্যটক নিয়ে আসবে, যা দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি করোনায় পর্তুগালের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে অনেক সহায়ক হবে ।

আরও পড়ুন

×