যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে পুলিশ। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ নিউইয়র্কবাসী। সাম্প্রতিককালে নিউইয়র্কে গুলিবর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে চলাচলে ভয় করছেন সাধারণ মানুষ। সিটিকে সচল রাখার অন্যতম যে বাহন সেই পাতাল ট্রেন এখন আতঙ্কের আরেক নাম।

বুধবার নিউইয়র্কের ইষ্ট ভিলেজ এলাকা থেকে পুলিশ পাতাল ট্রেনে হামলাকারী ফ্র্যাঙ্ক জেমসকে (৬১) গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের পর নিউইয়র্কে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা করছে পুলিশ।  

২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত শহরে ২৯৬টি গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ কমিশনার কীচ্যান্ট এল সিওয়েল অবশ্য রাস্তায় গুলিবর্ষণের ঘটনাগুলোকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। গত মঙ্গলবার ব্রুকলিন সাবওয়ে স্টেশনে এলোপাতাড়ি গুলিতে ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৯ ব্যক্তির আহতের ঘটনায় বোঝা যায় যে অপরাধে সংখ্যা ও ব্যাপকতা বেড়েই চলেছে। করোনা ভাইরাস মহামারি চলাকালে সব ক্ষেত্রে স্থবিরতা বিরাজ করা সত্ত্বেও অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কর্তৃপক্ষ আশা করেছিল যে মহামারির অবস্থা কেটে যাওয়ার সঙ্গে অপরাধও কমে যাবে। কিন্তু এর বিপরীতটাই ঘটেছে।

পুলিশ কমিশনার নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে অপরাধ দমন করার লক্ষ্যে সকল সম্পদ ও সুযোগ কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, গত তিন মাসে পুলিশ চার হাজার সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে, যা গত বছরের গ্রেপ্তার সংখ্যার দ্বিগুণের বেশি। কিন্তু তার বক্তব্য দেওয়ার ক’দিন পরই দুই পক্ষের গুলি বিনিময়ে ব্রঙঙ্কসে এক পথচারি বৃদ্ধা গুলিবিব্ধ হয়ে নিহত হয়। ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত হয় ১২ বছরের এক বালক। ব্রুকলিনের ডে-কেয়ারে তিন বছর বয়সী এক শিশুও গুলিবিদ্ধ হয়। সিটিতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারকারীর সংখ্যা সম্পর্কে পুলিশের কোনো ধারণা নেই। কারণ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করা অপরাধীদের জন্য কোনো সমস্যা নয়।