একসঙ্গে সাতটি জীবপ্রযুক্তি গবেষণাগার উদ্বোধন হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বায়োটেকনোলজি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টারের (ব্রিক) আওতায় ছয়টি এবং ঢাকার চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচএরএফ) ও সুইজারল্যান্ডের ফাইন্ড ডায়াগনস্টিকের সহায়তায় একটি ল্যাব স্থাপিত হল চবির জীববিজ্ঞান অনুষদে।

চবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে অত্যাধুনিক ল্যাবটি দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক জিনোম গবেষণাগার; যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেক্সট জেনারেশন সিকুয়েন্সিং, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাব চিটাগাং (এনরিচ)।  

সোমবার ল্যাবগুলোর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শিরীন আখতার। এ অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অফ অনার’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞানী ও গবেষক, চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ড. সেঁজুতি সাহা। 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে, বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণাগারের (বিসিএসআইআর) পরিচালক গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন (বিআইটিআইডি) এর পরিচালক ড. নাসিরউদ্দিন। 

ল্যাবগুলো হলো-জিন ও প্রোটিন গবেষণা ল্যাব, অণুজীব গবেষণা ল্যাব, রোগতত্ত্ব গবেষণা ল্যাব, ফার্মাসিউটিক্যালস গবেষনা ল্যাব, ক্যান্সার গবেষণা ল্যাব, পরিবেশ ও দৈহিক বৃদ্ধি গবেষণা ল্যাব এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজি গবেষণাগার। এছাড়াও নতুন চালু হওয়া ‘নেক্সট জেনারেশন সিকুয়েন্সিং, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ল্যাব চিটাগাং (এনরিচ)’ চট্টগ্রামের সব ধরনের অণুজীব, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের জিনোম বিন্যাস উন্মোচনের কাজ করবে। 

উপাচার্য অধ্যাপক শিরীন আখতার বলেন, এই ল্যাবগুলোর মাধ্যমে আমরা বিষদ পরিসরে গবেষণা করতে পারব আমরা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গ্রীন হাউজ ও করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্ট নিয়ে গবেষণা বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। নতুন ল্যাবে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে কাজ হবে, অটিজম নিয়ে কাজ হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা ড. সেঁজুতি সাহা বলেন,  এই ল্যাবগুলো ছোট্ট একটা শুরু। আমাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। চবির গবেষকদের নমুনা সংগ্রহের জন্য আর দূরদূরান্তে যেতে হবে না। বরং নমুনা এখন চবির ল্যাবেই আসবে।

এই ল্যাবগুলোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.আদনান মান্নান বলেন, পিসিআর ও জিন পালসার এই যন্ত্রগুলো আমাদের ল্যাবগুলোতে থাকবে। এ ল্যাবগুলোতে ক্যান্সার, সংক্রামক ব্যাধি, জেনেটিক্যাল ডিজিজ যেমন অটিজম, থ্যালাসিমিয়া, হিমোফিলিয়া গলগন্ড, কলেরা, টাইফয়েড, ডায়াবেটিস অণুজীব সংক্রমণ, খাদ্যে বিষক্রিয়া, মেটাজিনোমিক্স, মাইক্রোবায়োম এবং জলবায়ুসহিষ্ণু ধানের জাত ইত্যাদি বিষয়ে  উচ্চতর গবেষনা  সম্ভব হবে যা জাতীয় উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।