'যখন কেউ জানতে চায়, নতুন গান কবে প্রকাশ পাবে, টিভি আয়োজন নিয়ে ব্যস্ততা কেমন, আবার অভিনয়ে দেখা যাবে কিনা- তখন শিল্পী হিসেবে এক ধরনের দায়বদ্ধতা অনুভব করি। এই দায়বদ্ধতা শ্রোতার প্রত্যাশা পূরণের। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও চেষ্টা করে যাই সংগীতপ্রেমীদের জন্য নতুন কিছু করার। কিন্তু এর মধ্যে যেটা হলো, তা ছিল কল্পনার বাইরে। একই সময়ে একে একে পাঁচটি নাটকে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা হবে- তা সত্যিই ভাবিনি।' ঈদের পাঁচটি নাটকে গান গাওয়া নিয়ে এমন কথাই বললেন কণ্ঠশিল্পী সাবরিনা পড়শী। নাটকের গানের সংখ্যা দিয়েই এই শিল্পী সবাইকে চমকে দেননি, মুগ্ধ করেছেন তাঁর অনিন্দ্য গায়কী দিয়েও।

তাঁর গাওয়া 'নসিব' নাটকের 'একটা গল্প শোন' 'হাঙর'-এর 'আকাশ হবো তোমার', 'ওয়েডিং'-এর 'পারব না', 'প্রিয়জন'-এর 'তবে চল বলি' গানগুলোর পাশাপাশি 'মারিয়া ওয়ান পিস' নাটকের শীর্ষ সংগীত অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। শুধু পাঁচটি নাটকে গান গাওয়া নয়, একইসঙ্গে অভিনয়েও দেখা গেছে পড়শীকে। আরটিভিতে প্রচারিত 'মারিয়া ওয়ান পিস' নাটকে অভিনেত্রী রূপে পড়শী অনেকের মনোযোগ কেড়েছেন। সাজিন আহমেদের রচিত ও পরিচালিত এই নাটকে পড়শীর বিপরীতে ছিলেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ঋষি কৌশিক। এর আগেও অতিথি চরিত্রে ছোট পর্দায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে পড়শীর। 'মেন্টাল' ছবিতে কণ্ঠশিল্পীর চরিত্রে অভিনয় করেও অনেকের নজর কেড়েছেন তিনি। কিন্তু 'মারিয়া ওয়ান পিস' নাটকে দর্শক পড়শীকে আবিস্কার করেছেন কিছুটা ভিন্নরূপে। তাই সব মিলিয়ে পড়শী ছিলেন দর্শক-শ্রোতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

গানের প্রসঙ্গ নিয়ে পড়শী সবসময় বলেন, 'তাঁর প্রধান পরিচয়, তিনি কণ্ঠশিল্পী। এর বাইরে অভিনয়, মডেলিং, উপস্থাপনা যা কিছুই করেন, তা নিতান্ত শখের বসে করা।' তারপরও এই শিল্পীর কাছে প্রশ্ন ছিল, শখের বসে হলেও অভিনয় নিয়ে অনেকের নজর কেড়েছেন, সে হিসেবে আগামীতেও অভিনয়ে দেখা যাবে কিনা? এর উত্তরে পড়শী হেসে বলেন, 'দর্শকের কতটা নজর কাড়তে পেরেছি জানি না, তবে কিছু মানুষের ভালো লাগার কথা জেনে মনে হয়েছে, মাঝে মাঝে অভিনয়ে সময় দেওয়া যেতেই পারে। সেটা ছোট পর্দা কিংবা বড় পর্দা যেটাই হোক, কাজ যদি মনের মতো হয়, তাহলে আবারও অভিনয়ে দেখতে পাবেন। তবে সবকিছুর আগে ও পরে গানই প্রাধান্য পাবে। কারণ সংগীতই আমার ধ্যান-জ্ঞান। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেমন কাজ করতে চাই, তেমনি চাই নিরীক্ষাধর্মী আয়োজনেও অংশ নিতে।'

এ শুধু পড়শীর কথার কথা নয়, বাস্তবেই তিনি চান গায়কীতে নিজেকে ভেঙে বারবার নতুনভাবে নিজেকে তুলে ধরতে। সে কারণেই আমরা সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে দেখেছি কালজয়ী কিছু গানে নতুন করে গাইতে। গত বছর বিজয় দিবস উপলক্ষে নতুন করে রেকর্ড করা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে' কালজয়ী গানটিতে যাঁরা নতুন করে কণ্ঠ দিয়েছেন সেই দলে ছিলেন পড়শী নিজেও। এ নিয়ে তিনি বলেন, 'যে গানের সঙ্গে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জড়িয়ে আছে, তা নতুন করে গাইতে পারা যে কোনো শিল্পীর জন্যই আনন্দের।

গান রেকর্ডের মুহূর্তটায় তাই অন্য রকম এক ভালো লাগায় মন ভরে গিয়েছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই কালজয়ী গানের মূল শিল্পীদের একজন ডালিয়া নওশিন আমাদের সঙ্গে আরও একবার গেয়েছেন, এটাই ছিল ভীষণ ভালো লাগার। গানের অন্য শিল্পীরাও আমার ভীষণ প্রিয়। সব মিলিয়ে এটি আমার জীবনের স্মরণীয় কাজের একটি।' একই রকম কথা শোনা গেছে, তার কণ্ঠে নতুন করে রেকর্ড করা 'মীনা' কার্টুন সিরিজের 'আমি বাবা-মায়ের শত আদরের মেয়ে' গানটি নিয়েও। পড়শী বলেন, 'যে গান শুনে আমার মতো অনেকের বেড়ে ওঠা, সেই গানটি নতুন করে গাইতে পেরে শিল্পী জীবন ধন্য মনে হয়েছে। এমন আরও কিছু গানের মধ্য দিয়ে নিজেকে শ্রোতার আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চাই।' পড়শীর এই আকাঙ্ক্ষা যে অপূর্ণ থাকবে না, তার আভাসও পাওয়া গেছে এরই মধ্যে। এ সময়ের আলোচিত সংগীতায়োজক ছাড়াও গুণী সুরকারদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে ধাপে ধাপে নিয়ে যাচ্ছে ওপরের সিঁড়িতে। তাই এখন শুধুই পড়শীর সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠার পালা।