১৯৮২ সালের ২১ জুন থেকে উদযাপিত হয়ে আসছে বিশ্বসংগীত দিবস। সে বছর তৎকালীন ফরাসি সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং সংগীতকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে প্যারিসে দিনভর উৎসবের আয়োজন করেন। সেই থেকে এ দিবসের জন্ম। সংগীত দিবস ঘিরে তিন তারকা কণ্ঠশিল্পী জানিয়েছেন তাঁদের ভাবনার কথা...

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

আজ বিশ্বসংগীত দিবস। গানের মানুষের জন্য এটি বিশেষ দিন। গানকে একটা সময় শুধু মনোরঞ্জনের বিষয় মনে করা হতো। এখন আনন্দের পাশাপাশি গান দিয়ে যে পৃথিবীর সব হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত করা যায়, তা বোঝানোর সময় এসেছে। সংগীত মানুষের মনের ব্যাপার। মানবিক মূল্যবোধ, মানসিক প্রশান্তি- সবকিছুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। করোনা, বন্যা- সব মিলিয়ে মানুষ এখন ভালো নেই। এখন সবাই বেঁচে থাকার লড়াই করছে। আমরা সংগীতের মানুষেরাও এখন সংগীতের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই বেশি করছি। যেজন্য এ সময় সংগীত একটু মুখ থুবড়ে আছে। এ দুঃসময় কেটে যাবে- সংগীত দিবসের এটাই প্রত্যাশা।

কুমার বিশ্বজিৎ

বিশ্বসংগীত দিবস ঘিরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। দিনটিতে সরকারিভাবে একটি আন্তর্জাতিক উৎসব হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তাহলে বাইরের সংস্কৃতি সম্পর্কে আমরা জানতে পারব। ভাবের আদান-প্রদানের সুযোগ হবে। গ্লোবালাইজেশন করতে করতে আমরা এখন নিজের অস্তিত্বকে হারাতে বসেছি। বিদেশি সংগীতের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছি। আমাদের সংগীত অনেক সমৃদ্ধ। বিশাল সম্ভার। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের সংগীত পৌঁছে দিতে পারছি না। আমাদের দেশের ফোক গান নিয়ে বড় বড় কোম্পানি ব্যবসা করে যাচ্ছে। এটা এখনও আমরা ফিল করতে পারিনি। এখানে আমরা শুধু কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। পার্শ্ববর্তী দেশে আমাদের গানই জনপ্রিয় হচ্ছে। আমরা কেন আমাদের গানকে জনপ্রিয় করতে পারছি না? বিদেশের কোনো স্টুডিও এখানে এসে গান বানিয়ে নিয়ে যাবে তা ঠিক নয়। এখন গানের চেয়ে মুখ্য হচ্ছে অন্য বিষয়। আসলে গানই তো প্রধান। সেটাই উপেক্ষিত। গান দেখার বিষয় নয়, উপলব্ধির বিষয়। গানের প্রজন্ম যদি সৃষ্টি না হয় তাহলে আগামী প্রজন্ম পরনির্ভরশীল হয়ে যাবে। তখন ভালো গান বানালেও মানুষ শুনবে না।

ফাহমিদা নবী

সংগীতের ভালোমন্দ সব সময় থাকে। সেদিকে না হয় না-ই গেলাম। আমি চাই, বিশ্বসংগীত দিবসে সংগীত ছুটিতে থাকুক। এখন টিকটক হচ্ছে, সবাই গান গাইতে চায়। গানের প্রতি ভালোবাসা ও গান গাওয়া দুই বিষয়। গানে ভালো বিষয় এখন আর নেই। এটি এখন মজার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেজন্য প্রথমেই বললাম, গান কিছুদিন ছুটিতে থাকুক। কিছু সময় আমরা চুপচাপ থাকি। গানের সম্মান তো বাঁচাতে হবে। সবাই এখন গান দিয়ে আয়ের পথ খুঁজছেন। নীতির জায়গাটা হারিয়ে গেছে। তবে ভালো গানের শ্রোতার কোনোদিন অভাব হবে না। ভালো গান শোনার দিনই ফিরবে সংগীত দিবসে- এ প্রত্যাশা
 করাই যায়।