প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কটূক্তি করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় রুমন সরকার রনি (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তিনি উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুমাইটারি গ্রামের আনজু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, গত ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলেন তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। পদ্মা সেতু উদ্বোধন চলাকালীন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের একটি ছবি বিকৃত করে মানহানিকর কটূক্তি করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন রনি। তার করা পোস্টটি দলীয় নেতাকর্মীদের নজরে আসলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফরুজা বারীর নির্দেশনায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল শনিবার রাতে থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫/৩১ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার রনিকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় ফরমান আলী জানান, রনির বাবা আনজু মিয়া একজন ব্যবসায়ী। তিনি বিএনপির শ্রমিকদলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক। রনি বগুড়া সোনাতলা কলেজের আনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রদল কর্মী। 

মামলার বাদী রাসেল জানান, প্রধানমন্ত্রী কেন, যেকোনো মায়ের কন্যা সন্তানকে নিয়ে এহেন কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্য করা অত্যান্ত মানহানিকর। সভ্য সমাজের একজন যুবক এ রকম মানহানিকর মন্তব্য করতে পারে না। তাই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 

দহবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল আলম রেজা জানান, সামাজিক যোগাযোমাধ্যম ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য সমাজের কাছে কেউ আশা করে না। তাই আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া উচিত।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফরুজা বারী জানান, ফেসবুকের কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্যটি আমাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। সে কারণে ডিজিটাল আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরা সমাজকে নষ্ট করে। তাই এদের বিচার হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এম এ আজিজ জানান, ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা পুতুলের ছবি বিকৃত করে মানহানিকর কটূক্তি করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলায় রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।