খেজুরগাছকে বলা হয় মরুর শোভা। এই গাছের ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু। ফল ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যে পরিবেশের শোভাবর্ধনে খেজুরগাছের ব্যবহার চোখে পড়ার মতো। সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বাংলাদেশিদের শ্রম-ঘামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য খেজুর বাগান। এসব বাগান থেকে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

আমিরাতের জাতীয় ফল খেজুর। বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশ খেজুর দেশটি উৎপাদন করে থাকে। জাতীয় ফল হওয়ায় আমিরাতে খেজুরের রয়েছে বাড়তি মর্যাদা। শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে বাসাবাড়ি ছাড়াও বড়-ছোট রাস্তা ঘেঁষে লাগানো হয় সারি সারি গাছ, যা প্রতিনিয়ত পথচারী ও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, আমিরাতে প্রায় ২০০ ধরনের খেজুর উৎপাদন হয়। এক দশক আগের এক জরিপে দেশটিতে প্রায় সাড়ে চার কোটি খেজুরগাছ থাকার কথা জানানো হয়। দেশটিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বড় অংশ খেজুর চাষ করেন। তাঁদের যত্নআত্তিতে খেজুরগাছ এরই মধ্যে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমিরাতের আবুধাবি, আল আইন, লেওয়ার মতো মরু অঞ্চলগুলো খেজুর উৎপাদনের উর্বর জায়গা। এ ছাড়া হাত্তা, ধাইদ, রাস আল-খাইমায় আছে অসংখ্য খেজুরের বাগান। এসব বাগানে কর্মরত চাষিদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। খেজুর উৎপাদনে মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের ব্যস্ত সময় কাটে।
সুনামগঞ্জের সৈয়দ আনজাম আলী প্রায় ২০ বছর খেজুর চাষ করছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। প্রতিবছর খেজুরের ফুল আসা থেকে ফল উৎপাদন ও বিক্রি নিয়ে অক্টোবর পর্যন্ত থাকেন তিনি। আবুধাবির আরেক খেজুর চাষি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মোহাম্মদ হাশেম আলী ১৫ বছর ধরে এই পেশায় আছেন। খেজুরের ফুলে ফুলে পরাগায়ন, ঢাল বাঁধা, থলে লাগানো ও পাকা খেজুর রোদে শুকানো পর্যন্ত ধকল যায় তাঁর।

আবুধাবির দুটি বাগানে খেজুর চাষি হিসেবে জীবনের ১৯ বছর পার করেছেন সিলেটের আলমাস আলী। প্রথমে তিনি সবজি বাগানে কাজ করলেও পরে অন্যদের উৎসাহে নিজে হয়ে ওঠেন দক্ষ খেজুর চাষি। প্রবাসী এসব চাষি জানান, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই বেতনভুক্ত কর্মচারী। ফল উৎপাদনের জন্য সূক্ষ্ণভাবে খেজুরগাছের পরিচর্যা করতে হয়। মার্চের দিকে খেজুরগাছে ফুল আসা শুরু হয়। পুরুষ গাছের ফুল কেটে নিয়ে স্ত্রী গাছের সঙ্গে পরাগায়ন করান তাঁরা। এরপর ফল নষ্ট হওয়া রোধে এগুলোর ঢাল বাঁধতে হয়। খেজুরের আকার মাঝারি হলে জালের মতো এক ধরনের থলে বাঁধা হয়। এতে পোকামাকড় ও পাখি থেকে রক্ষা পায় খেজুর। এরপর খেজুর পেকে গেলে কেটে নিয়ে শুকানোর জন্য থাকে বিশেষ ব্যবস্থা। শুকনো খেজুর কার্টনে করে বিক্রি করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ার সাত থেকে আট মাস সময় লাগে বলে জানান বাংলাদেশিরা।

খেজুর বাগান তৈরি, সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য প্রতিবছর আমিরাতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রদর্শনী ও বিক্রয় উৎসব হয়। এতে বাগান মালিক ও চাষিদের উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং উন্নত কৌশল শেখানো হয়। এ বছর বিশ্বের অন্যতম বিটুবি খেজুর প্রদর্শনী হবে আগামী ৬-৮ ডিসেম্বর আবুধাবিতে। অবশ্য এখন শারজাহর সুক আল জুবাইলে চলছে তিন মাসব্যাপী খেজুর উৎসব।