সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবকের লাইভে এসে খায়রুল বাশার রানা (৪৬) নামে এক আরব আমিরাত প্রবাসী আত্মহত্যা করেছেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে। স্থানীয় নোয়া বাজার বাড়ির মৃত বদিউল আলমের ছেলে তিনি।

গত সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানের একটি বাসা থেকে খায়রুল বাশার লাইভে এসে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এসময় তিনি একই উপজেলার সুয়াবিল গ্রামের জনৈক রফিক নামে একজন প্রবাসীর কাছে প্রতারিত ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

খায়রুল বাশারের এক মেয়ে ও এক ছেলের বাবা। তার স্ত্রী নুরজাহান ও আমিরাতে তার ব্যবসায়িক পার্টনার রফিক উদ্দিন তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

নুরজাহান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় আমিরাত থেকে বাবর ও মহিউদ্দিন নামে দুই আত্মীয় ফোন করে তাকে বাশার মারা যাওয়ার খবর দেন।

নুরজাহান বলেন, কিছুদিন ধরে তিনি ব্যবসা নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। পার্টনারে নতুন দোকান নিয়েছিলেন। ওই দোকান নেওয়ার সময় আমার স্বর্ণালঙ্কার ও জমি বন্ধক দিয়ে টাকা ঋণ করেছি। দেশ থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পাঠাই। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য বিভিন্নভাবে পাওনাদাররা চাপ সৃষ্টি করলে আমি উনাকে জানাই। তিনি টাকা দেবেন বলে আশ্বাসও দেন।

প্রবাসী মহিউদ্দিন জানান, ব্যক্তিজীবনে খায়রুল বাশার ন্যায়পারয়ন মানুষ। আমরা বন্ধুর মতোই চলাফেরা করেছি। প্রথম দিকে তার একটি চায়ের দোকান ছিল। সেটি বিক্রি করে সবজির দোকান চালু করেছিল। পরে ওই সবজির দোকানটি পরিবর্তন করে পার্টনারে মোবাইল দোকান চালু করে। তাকে সর্বদা মানুষের উপকারে এগিয়ে আসতে দেখেছি। কিন্তু আত্মহত্যার পথ কেন বেঁচে নিয়েছে জানিনা।

বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুবাইয়ের সাধারণ সম্পাদক ফটিকছড়ি উপজেলার বাসিন্দা সাইফুদ্দিন সমকালকে বলেন, খায়রুল বাশারের মৃত্যুর খবর শুনেছি। আমাদের ৭ কিলোমিটার ব্যবধানে তার গ্রামের বাড়ি। ফটিকছড়ির স্থানীয় প্রবাসীদের এ বিষয়ে তদারকি করতে বলেছি।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (শ্রম) ফকির মনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কনস্যুলেট অবগত রয়েছে। পুলিশের প্রক্রিয়াধীন বিষয়। রিপোর্ট আসা পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারব না। তবে আমরা মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা নেব।

স্থানীয় ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সমকালকে বলেন, আমিরাতের আজমানে খায়ুরুল বাশার মারা গেছেন শুনেছি। তবে তার পরিবারের কেউ এখনও অভিযোগ বা যোগাযোগ করেনি।