কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে উপজেলার গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের শংকরদিয়া বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভায় সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার সামনেই ঘটনাটি ঘটে।

নেতাকর্মীরা জানান, শোকসভা শুরু হলে গোস্বামী দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক লাল্টুর রহমান তাঁর অনুগতদের নিয়ে যোগ দেন। একপর্যায়ে তাঁরা শোকসভায় আগতদের জন্য রান্না করা খাবার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিনের অনুসারীদের ওপর হামলা করে।

এ সময় দু'পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। ভাঙচুর করা হয় চেয়ার। আতঙ্কে শোকসভায় আসা সাধারণ মানুষ পালিয়ে যান। প্রায় ২০ মিনিট চলে এই সংঘর্ষ। এতে আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান, ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর হোসেন, ছাত্রলীগের কর্মী শিলন, ডাবলুসহ ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে হাবিবুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বলেন, লাল্টুর রহমানের শতাধিক অনুসারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা আমার কর্মীদের কুপিয়ে জখম করেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লাল্টুর রহমান বলেন, আমার লোকজনের ওপর দবিরের লোকজন হামলা করেছে। ৫-৬ জন আহত হয়েছেন। আমার তিন ভাইয়ের মাথা ফেটে গেছে। পরে আমরা প্রতিরোধ করেছি।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর। দায়ীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ওসি আনুর যায়েদ বিপ্লব বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি এখন শান্ত।