বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে এর আগে জিততে পারেনি ব্রাজিল। প্রথমার্ধে দর্শকদের নিস্তব্ধতাও যেন ভিন্ন কিছুর শঙ্কা জাগাচ্ছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে যেন ভোল পাল্টে যায়। সব ছাড়িয়ে কাসেমিরোর অসাধারণ শটে প্রাণ ফিরে পায় সেলেসাওরা। প্রিয় দলের জয়ে টিএসসিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা। খেলা শেষেই সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে হর্ষধ্বনি, মোটরসাইকেলে শোডাউন ও বাঁশি বাজিয়ে বিজয় উদযাপন করেন তারা।

বিশ্বকাপের খেলা উপভোগ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় দুটি ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠে একটি ডিজিটাল স্ক্রিন বসানো হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও তার আশপাশেও পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাতার বিশ্বকাপের ঝলক দেখতে রোজই ক্যাম্পাসে ভিড় জমছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকছেন ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রাত ৯টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ও মুহসীন হলের মাঠে জড়ো হতে শুরু করেন সমর্থকেরা। ব্রাজিলের পতাকা নিয়ে ক্যাম্পাসের সড়কে শোডাউন দেন তারা। রাজু ভাস্কর্যের সামনে আতশবাজি ফোটান। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়স্ক-সব পর্যায়ের মানুষকে খেলা দেখতে দেখা যায়। খেলা শুরুর আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস এলাকা।

খেলা শুরু হওয়ার পর প্রথমার্ধে গোলের তেমন সুযোগ তৈরি করতে না পারায় সমর্থকেরা ছিলেন প্রায় নীরব। এ সময় ভুভুজেলার শব্দও কম শোনা যাচ্ছিল। এরপর ভিনিসিয়ুসের চেষ্টা বিফল হলেও উল্লাসের রেশ থেকে যায় এবং তাতে পূর্ণতা এনে দেন কাসেমিরো। শেষ ১-০ গোলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ব্রাজিলিয়ানদের। রেফারির শেষ হুইসেলে উল্লাসে ফেটে পড়েন দর্শকেরা। তবে এদের বেশিরভাগই ক্যাম্পাসের বাইরের মানুষজন।

সমর্থকেরা বলেন, নিন্দুকের মুখে ছাঁই পড়েছে। প্রথমার্ধে খেলা না জমলেও দ্বিতীয়ার্ধে খেলে জমে উঠেছে। নেইমারবিহীন ব্রাজিল পারে তা প্রমাণ হয়েছে। প্রিয় দলের জয় অটুট থাকুক।