সেদিনের ম্যাচটি ছিল রোহিত শর্মাদের সব কেড়ে নেওয়ার। লিটন দাসরা নিয়েছিলেন জয় আর স্লো ওভার রেটের কারণে ম্যাচ অফিসিয়ালরা কেটে নিয়েছিলেন ভারতের ম্যাচ ফির ৮০ শতাংশ। সেই ভারতকে আজ নিঃস্ব করে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। লিটনরা চাচ্ছেন আজও ভারতকে হারিয়ে মিরপুর থেকে সিরিজ জিতে চট্টগ্রামে যেতে। শেরেবাংলার রহস্যঘেরা পিচে পরিকল্পনা মতো খেলে যেতে পারলে বাংলাদেশের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো সিরিজ হারবে ভারত। মুস্তাফিজরা কি আজ পারবেন ২০১৫ সালে ফিরে যেতে, টানা দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিতে?

এই সিরিজ দিয়ে মৌসুম শুরু করেছে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো হওয়ায় আত্মবিশ্বাস এবং প্রত্যাশা হাত ধরাধরি করে এগোচ্ছে। কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর বিশ্বাস তিন বিভাগে অলআউট ক্রিকেট খেলা গেলে টাচ লাইন স্পর্শ করা কঠিন হবে না। 'এই সংস্করণে আমাদের দলের আত্মবিশ্বাস থাকে। এটা সহজে আসেনি। ভারত ভালো দল। তারা দুর্দান্তভাবে ফিরে আসবে। আমরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও কাল (আজ) আমাদের আগের ম্যাচের চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা নার্ভ ধরে রাখতে পারলে লাইন অতিক্রম করতে পারব।'

কুঁচকির চোটের কারণে তামিম ছিটকে যাওয়ায় ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে নেতৃত্ব পেয়েছেন লিটন কুমার দাস। অধিনায়কের অভিষেকটাও হলো জয় দিয়ে। সেটাকে সিরিজ জয়ে রূপ দেওয়া গেলে বড় প্রাপ্তি লেখা হবে লিটন দাসের নামের পাশে। গতকাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে রাসেল ডমিঙ্গো মিরাজ-লিটনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন। 'লিটন ভালো করেছে প্রথম ম্যাচে। তার কৌশলগত চিন্তা ভালো। সে কয়েকজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আইডিয়া নিয়েছে। প্রত্যেক অধিনায়কের আলাদা স্টাইল থাকে। লিটন খুবই শান্তশিষ্ট। সে কথা কম বলে, কারণ পারফরম্যান্সে বিশ্বাসী। খেলা নিয়ে অনেক ভাবে। যেটা লিডারশিপের জন্য ভালো।' ১৮৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তকে শুরুর বলে হারালেও লিটন হাল ধরে ছিলেন নেতার মতোই। ৪১ রান করে ইনিংস মেরামত করেছিলেন অধিনায়ক। এর পরও ১৩৬ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুস্তাফিজুর রহমান হার না মানা ৫১ রানের জুটি গড়ে হারা ম্যাচে জয় এনে দেন। আজও সাকিব-মিরাজ-মুস্তাফিজ বা অন্য কারও পারফরম্যান্সে আলোকিত হতে পারে মিরপুর। দেখা যেতে পারে জয়ের মিছিল।