ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাসের ৬০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রন্থ প্রকাশ

লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাসের ৬০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রন্থ প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০৩:০৪

বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাসের আসন্ন ৬০তম জন্মবার্ষিক উপলক্ষে ‘হীরকজয়ন্তী: সুব্রত কুমার দাস’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও কানাডার ৬০ বিশিষ্টজনের রচনাসমৃদ্ধ এই গ্রন্থের  প্রকাশক ঢাকার মূর্ধন্য প্রকাশনী। ইয়েটস গবেষক হিসেবে সুপরিচিত টরন্টোর লেখক সুজিত কুসুম পাল এবং মূর্ধন্য প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী সঞ্জয় মজুমদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত তিন শতাধিক পৃষ্ঠার এই গ্রন্থের প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়েছে টরন্টোর অনন্য ক্যামেরাশিল্পী দীপক সূত্রধরের তোলা ছবি। প্রচ্ছদ বানিয়েছেন নন্দিত শিল্পী মোস্তাফিজ কারিগর।

জানা যায়, সুব্রত কুমার দাস মূলত প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক এবং অনুবাদক। সংগঠক হিসেবেও তার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রাক্তন অধ্যাপক সুব্রত বাংলা কথাসাহিত্যকে খুঁটিয়ে দেখেন জহুরির মতো। অগোচরে পড়ে থাকা মেধাবী লেখককে তুলে আনেন সুনিপূণ দক্ষতায়। তার সৃজনশীল, সাহসী ও যুগোপযোগী উপস্থাপন তথ্যপ্রযুক্তি ও যুগমানসের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইন্টারনেটে বাংলা সাহিত্যের দুরবস্থা কাটিয়ে উঠতে যোগ করেছিল নতুন মাত্রা। ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশি নভেলস ডট কম (www.bdnovels.org)-এর মধ্য দিয়ে তিনি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের উপন্যাস সাহিত্যকে যা ভৌগলিক সীমা ছাড়িয়ে বাংলা ভাষাভাষীর পাশাপাশি ভিন্ন ভাষার পাঠককেও বাংলা সাহিত্য সম্পর্কে ক্রমাগত কৌতুহলী করে তুলেছে।

সুব্রত কুমারের জন্ম ৪ মার্চ, ১৯৬৪। বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার কামারখালী গ্রামে জন্মগ্রহণকারী সুব্রত কুমারের বাবার নাম স্বর্গীয় বৈদ্যনাথ দাস এবং মা গীতারানী দাস। সুব্রত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে ইংরেজিতে সম্মানসহ এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। অভিবাসী হবার আগে তিনি সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ে। এছাড়াও অধ্যাপনা করেছেন দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয়, কেমব্রিয়ান কলেজ, ওয়েসটার্ন কলেজ, বাংলাদেশ রাইফেলস কলেজ, সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ডিগ্রী কলেজ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে। ২০১৩ সালের আগস্ট মাস থেকে টরন্টোতে বসবাস করছেন সুব্রত কুমার দাস। সুব্রত রাইটারস ইউনিয়ন অব কানাডা এবং লিটারারি ট্রানস্লেটরস এসোসিয়েশন অন কানাডার সদস্য।

২০২০ সালে প্রথম বাঙালি হিসেবে তিনি টরন্টো ইন্টারন্যশনাল ফেস্টিভ্যাল অব অথরস বা টিফা-তে আমন্ত্রণ লাভ করেন এবং এগারোজন লেখকের একটি দলের নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বেই ২০২২ এবং ২০২৩ সালে নয় এবং এগারোজন কানাডাবাসী কবি-লেখক টিফাতে অংশ নেন।

উত্তর আমেরিকায় বাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্যে অবিদানের জন্যে সুব্রত কুমার দাস ২০১৮ সালে আমেরিকার নিউ জার্সি শহর থেকে গায়ত্রী গ্যামার্স মেমোরিয়াল পুরস্কার লাভ করেন। ২০২৩ সালে ব্রাম্পটন শহরে আয়োজিত কানাডার দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য উৎসবে তিনি কানাডার শ্রেষ্ঠ বাঙালি লেখকের পুরস্কার লাভ করেন। ২০২১ সালে কানাডার শীর্ষ ২৫ অভিবাসী পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত প্রার্থী তালিকায় উঠে আসে সুব্রত কুমার দাসের নাম।

‘হীরকজয়ন্তী: সুব্রত কুমার দাস’ গ্রন্থে ব্যক্তিগত গদ্য ও গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন যে বিশিষ্টজনেরা তারা হলেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব, কবি ও গবেষক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন,  বাংলা একাডেমী এবং জেমকন সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক সালমা বাণী, বিশিষ্ট কবি ও অনুবাদক অধ্যাপক ড. গৌরাঙ্গ মোহান্ত, নিউইয়র্ক অভিবাসী প্রাবন্ধিক ও গবেষক আহমাদ মাযহার, ফ্রান্স থেকে লেখক, কবি, ভাষা ও আবৃত্তিকর্মী রবিশঙ্কর মৈত্রী, জাপানের নাগাসাকি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষক তিয়াশা চাকমা, বাংলামেইল পত্রিকার সম্পাদক ও এনআরবি টেলিভিশনের সিইও লেখক শহিদুল ইসলাম মিন্টু, বাংলা কাগজ পত্রিকার সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্রজন মনিস রফিক, লেখক ননীগোপাল দেবনাথ, লেখক ও গবেষক ড. ফজলুল হক সৈকত, কবি ও ছড়াকার ড. বাদল ঘোষ, কবি ও কথাশিল্পী মৌসুম মনজুর, লেখক ও চিত্রনির্মাতা রেজা ঘটক, কবি সুমন সরদার, পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাশিল্পী কাজী রাফি, জাপানপ্রবাসী গবেষক প্রবীর বিকাশ সরকার, টরন্টোর জনপ্রিয় কবি ও সংগঠক দেলওয়ার এলাহী, কবি চঞ্চল শাহরিয়ার, বিশিষ্ট সিপিএ অসীম ভৌমিক, প্রতিষ্ঠিত প্রকৌশলী রতন সাহা, সাংবাদিক মাসুদ রানা, লেখক ও উপস্থাপক তাসমিনা খান, কবি, চিত্রী ও উপস্থাপক দেবাঞ্জনা মুখার্জি ভৌমিক, কবি ও উপস্থাপক চয়ন দাস, ক্যালগেরির বিশিষ্ট শিল্পী গুরুপ্রসাদ দেবাশীষ, ঔপন্যাসিক জাকারিয়া মুহাম্মদ ময়ীন উদ্দিন, বাচিক শিল্পী ও অধ্যাপক সালমা মুক্তা, অস্ট্রেলিয়া থেকে কথাশিল্পী মহিবুল আলম এবং অনুবাদক ও সংস্কৃতিকর্মী মম কাজী।

বিপুলায়তন এই গ্রন্থের প্রকাশব্যয় বহনে মূর্ধন্যকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন টরন্টোর অগ্রগণ্য ইমিগ্রেশন লইয়ার ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী ও তার প্রতিষ্ঠান সূর্য ল।

সুব্রত কুমারের যে সকল ছাত্রছাত্রী তাকে নিয়ে স্মৃতিমূলক গদ্য লিখেছেন তারা হলেন তরুণ ঘোষ, ড. নাফিস আহমদ, আয়শা আখতার, ফজলে রাব্বি, সাহস মোস্তাফিজ, অজয় কুমার মৈত্র, সোহেল মাহমুদ, নাদিয়া পারভীন জুথী এবং সেলিনা আক্তার। উল্লেখ করা যেতে এদের প্রত্যেকেই সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত মানুষ।

সুব্রত কুমার রচিত বই নিয়ে আলোকপাত করেছেন ক্যলাগেরি থেকে পণ্ডিত লেখক শেখর কুমার সান্যাল, লেখক রেখা পাঠক, পূর্বোক্ত কাজী রাফি, গবেষক সুজিত  কুসুম পাল, লেখক ও সাংবাদিক সৈকত রুশদী, কবি ও ঔপন্যাসিক বরুণ কুমার বিশ্বাস, লেখক অতনু দাশ গুপ্ত, প্রয়াত লেখক রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ ড. নুরুল আনোয়ার, পূর্বোক্ত ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, পূর্বোক্ত প্রবীর বিকাশ সরকার, অধ্যাপক ও চিকিৎসক রেশমা মজুমদার শম্পা, লেখক ও সাংবাদিক রাজিউল হাসান, সংস্কৃতিকর্মী সামিনা চৌধুরী, নন্দিত কবি বাচিকশিল্পী শেখর ই গোমেজ, কবি ও ছোটগল্পকার রোকসানা পারভীন, লেখক সুশীল কুমার পোদ্দার, বহু গ্রন্থের প্রণেতা নৃপেন্দ্রলাল দাশ, কবি ও গবেষক যুগ্মসচিব মনিরুল ইসলাম, কবি ও প্রাবন্ধিক যুগ্মসচিব কাজী শাহজাহান এবং পূর্বোক্ত তাসমিনা খান।

বইতে সুব্রত কুমারের একটি সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নিয়েছেন অতনু দাশ গুপ্ত। কুড়ি বছর ধরে চলা ওয়েবসাইট উদ্যোগ নিয়ে লিখেছেন জান্নাতুল নাইম। সেই উদ্যোগ নিয়ে আরেকটি সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পূর্বোক্ত অতনু।

জানা যায়, সুব্রত কুমার দাসের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে মূর্ধন্য প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী সঞ্জয় মজুমদার একটি সম্মাননা গ্রন্থ প্রকাশ করেছিলেন। অধ্যাপক এম এ আজিজ মিয়া এবং লেখক বরুণ কুমার বিশ্বাস সম্পাদিত সে গ্রন্থ ছাড়াও মূর্ধন্য প্রকাশনী সুব্রত কুমার দাসকে নিয়ে অন্য যে গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে সেটি হচ্ছে রাজিউল হাসান রচিত ‘তিনি এবং আমরা’ যেখানে সুব্রত কুমারের চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করতে চেষ্টা করেছেন লেখক।

মূর্ধন্য প্রকাশনীর সত্ত্বাধিকারী সঞ্জয় মজুমদার সুব্রত কুমার দাসকে নিয়ে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করতে পেরে বিপুল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বইটি মেলাতে সমাদৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন ঘরে বসে বই কিনতে ব্যবহার করা যাবে এই লিংকে https://www.rokomari.com/book/378263/hirok-joyonti

আরও পড়ুন

×