হাসপাতালে ভর্তি মাকে দেখে ফেরার পথে যুবক খুন

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯      

বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে  নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা আপেল মাহমুদ (৩০) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে। 

বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ বগুড়ার কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নে তিনদীঘি বাজারের পাশে ছাতারপুকুর এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে স্বজনরা তার লাশ সনাক্ত করেন।

নিহত আপেল গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের মোগলটুলি গ্রামের সৈয়দ আব্দুল ওহাবের ছেলে। 

স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, আপেল আমদানী-রপ্তানির ব্যবসা করতেন। ময়দা মিলের মালিক আপেল ইনডেক্স বিজনেস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ নামে গোবিন্দগঞ্জে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও কর্ণধার ছিলেন। 

পুলিশ জানায়, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের কোনও ক্লু তারা এখনও বের করতে পারেননি।

কাহালু থানার সাব ইন্সপেক্টর ডেভিড হিমাদ্রি বর্মা জানান, লাশটি কাহালুর বারোমাইল-নামুজা সড়কে তিনদীঘি বাজার থেকে ৯০০ গজ পশ্চিমে ছাতারপুকুর এলাকায় পড়ে ছিল। লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। তখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা ছিল না। যে কারণে পুলিশের কাহালু ও নন্দীগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে তোলা নিহত ব্যক্তির ছবি শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেন। ওই ছবিতে দেখা যায় জিন্সপ্যান্ট ও ব্লেজার পরা লাশের পাশে পাঁচশ টাকার নোটসহ নগদ কিছু টাকা, চাবির গোছা, চিরুনি, কলম, লিপজেল ও কুরুশ কাঁটায় তৈরি একটি টুপি পড়ে আছে।

সাব ইন্সপেক্টর ডেভিড হিমাদ্রি বর্মা বলেন, ফেসবুকে ছবি শেয়ার করার পর শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্বজনরা কাহালু থানায় এসে লাশটি আপেল মাহমুদের বলে সনাক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আপেল মাহমুদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।’

নিহতের বড় চাচা সৈয়দ আব্দুল করিম জানান, আপেলের মা আয়েশা বেগম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন রফাতুল্লাহ্ কমিউনিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মাকে দেখতে বৃহস্পতিবার তিনি বগুড়া আসেন। 

তিনি বলেন, হাসপাতালে মাকে দেখে বৃহস্পতিবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে আপেল বের হয়ে যায়। কিন্তু রাতে আর বাড়ি ফেরেনি। সকালে ফেসবুকে তার লাশের ছবি দেখে আমরা বগুড়ায় আসি।

কাহালু থানার ওসি শওকত কবীর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় চাচা সৈয়দ আব্দুল করিম কাহালু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের ক্লু সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু পরিচয় পাওয়া গেছে তাই ক্লুও বের করা সম্ভব হবে। তবে এজন্য একটু সময় লাগবে।