পুঠিয়ায় শ্রমিক নেতা হত্যা: ছাত্রলীগ নেতাসহ আসামি ১২

প্রকাশ: ১২ জুন ২০১৯      

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীর পুঠিয়ায় পরিবহন শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাকিবুর রহমান মিঠুসহ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ৫ নেতাকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিহতের মেয়ে নিগার সুলতানা এ হত্যা মামলা করেন।

পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দীন জানান, এই মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামীরা হলেন- জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পটল, কোষাধ্যক্ষ শাহীন, সহসভাপতি নুরুল আমিন, দফতর সম্পাদক আব্দুর রশিদ, পুঠিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাকিবুর রহমান মিঠু ও শ্রমিক নেতা  আব্দুল মতিন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ এপ্রিল জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের পুঠিয়া শাখার নির্বাচনে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুর রহমান পটলের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে নুরুল ইসলাম বিজয়ী হলেও ভোট কারচুপি করে পটলকে বিজয়ী করার অভিযোগ তোলা হয়।

এতে বলা হয়, এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম ভোটের ফলাফল বাতিলের দাবি চেয়ে আদালতে মামলা করেন। এই মামলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন মামলার বাদী নিগার সুলতানা। এছাড়া আরো অন্তত ছয়জন অজ্ঞাত ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দীন আহমেদ জানান, মামলার তদন্ত জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারাই তদন্ত করছেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে মামলাটির তদন্ত কাজ অনেকটা এগিয়েছে বলেও জানান তিনি।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, গোয়েন্দা পুলিশ খুবই আন্তরিকভাবে তদন্ত কাজ করছে। কললিস্ট, সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ দেখা হচ্ছে। তবে অন্ধকার হওয়ায় ফুটেজ পরিষ্কার নয়। তবুও আশা করছি প্রকৃত অপরাধীরা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

তিনি জানান, মামলার এজাহারে যাদেরকে আসামি করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই শ্রমিক নেতা। একজন ছাত্রলীগ নেতা। তাদের সঙ্গে নুরুল ইসলামের বিরোধ ছিলো। এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় কোন পক্ষ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করছে কিনা- সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।